Sports Bangla

২২ বছর পর…

২২ বছর পর…

২২ বছর পর…
সেপ্টেম্বর ০১
১৪:৫৭ ২০১৫

Milestone-wedding-1-main colorপারেননি সৌরভ গাঙ্গুলির মত অধিনায়ক, যে কাজ পারেননি রাহুল দ্রাবিড় কিংবা মহেন্দ্র সিং ধোনি, সেই কাজটিই করে দেখালেন বিরাট কোহলি। বলা যায়, নিজের নেতৃত্বে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সফরেই সিরিজ জিতে গেলেন কোহলি। ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে এক ম্যাচ পিছিয়ে থেকে ২-১ ব্যবধানে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে হারানোর পর কোহলি এখন বলতেই পারেন, ‘আমরা ইতিহাস তৈরী করে ফেলেছি।’

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে ১১৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জয়ের পর উল্লসি কোহলি বলেন, ‘১-০ তে পিছিয়ে থাকার পর টেস্ট সিরিজ জয়, এটা তো খুব সহজ কাজ নয়। এমনকি বিদেশের মাটিতে কখনও ভারত এমন কামব্যাক করে সিরিজ জিততে পারেনি। এটাই প্রথম। সুতরাং, এখন বলতেই পারি যে, সত্যি আমরা ইতিহাসই সৃষ্টি করতে পেরেছি।’

Explore1১৯৯৩ সালে আজহার উদ্দিনের পর কোহলিই প্রথম অধিনায়ক, যিনি শ্রীলংকার মাটি থেকে টেস্ট সিরিজের ট্রফি হাতে তুলে নিতে পারলেন। এর মাঝে কেটে গেছে ২২টি বছর। কোন ভারতীয় অধিনায়কই পারেননি লংকা জয় করতে। শুধু শ্রীলংকা জয়ই নয়, ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে গিয়ে সিরিজ জয় করার পর, গত চার বছরে বিদেশের মাটিতে আর কোন সিরিজ জয় নেই ভারতের। মহেন্দ্র সিং ধোনির মত দাপুটে অধিনায়কও পারেননি বিদেশের মাটি থেকে সিরিজ জয় করে ফিরতে। অথচ, দায়িত্ব নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিরিজটিই বিদেশের মাটি থেকে ভারতকে উপহার দিলেন কোহলি।

এ কারণে স্বভাবতই উচ্চসিত ভারত অধিনায়ক। প্রশংসায় ভাসালেন সতীর্থদের। শুধু মাঠে যে একাদশ খেলেছে তাদেরই নয়, যারা মাঠে ছিলেন না, ড্রেসিংরুমে ছিলেন দলের অংশ হয়ে, এই সিরিজ জয়ে তাদেরও যে অবদান ছিল সেটাও বলতে ভুললেন না কোহলি। তিনি বলেন, ‘এমনকি যারা খেলেননি, যেমন ভুবনেশ্বর, বরুন অ্যারোন এমনকি সিনিয়রদের মধ্যে ভাজ্জি (হরভজন) সবাই নিজেদের জায়গা থেকে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। বুদ্ধি দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এবং তরুণদের সাহস দিয়ে এই জয়ে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।’

পেসার ইশান্ত শর্মার উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘হৃদয়ের সর্বোচ্চ আবেগ দিয়ে যেন বোলিং করেছেন ইশান্ত। প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাঝে মাঝে রাগিয়ে তুলেছেন শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানদের। যা আমাদের পক্ষে দারুন কাজ দিয়েছে।’

তরুণ একটি দল নিয়ে এভাবে, এমন অসাধারণ একটি সিরিজ জয়ের পর কোহলির অনুভূতি না জানলেও চলে। তবুও জিজ্ঞাসা করা হল এবং তিনি উত্তর দিলেন, ‘অবশ্যই খুব ভালো। কারণ, এমন একটি তরুণ দল নিয়ে সিরিজ জেতা খুবিই গৌরবের। এ দলটিতে এমন অনেকে আছেন, যারা মাত্রই ক্যারিয়ার শুরু করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন একটি জয়, তাদের জন্য নয় শুধু আমাদের পুরো দলের জন্যই একটা মাইলফলক। এছাড়া ২২ বছর পর এখানে সিরিজ জিতেছি, স্পেশাল তো অবশ্যই।’

ইনজুরির কারণে এই দলটি থেকে ছিটকে গেছেন ওপেনার শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল, উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহা। এগুলো কম ছোট ধাক্কা নয়। তবুও সিরিজ জয়। কোহলি বলেন, ‘ইনজুরি একটা দলকে যে কোন সময় হতাশায় ফেলে দিতে পারে। তবে আমাদের মানসিকতা ছিল দুর্দান্ত। সবারই মধ্যে ভাব ছিল যে জিততেই হবে। এমনকি ইনজুরি থেকে চেতেশ্বর পুজারা যে ইনিংসটা খেললেন, সেটাকে তো অসাধারণ বলতেই হবে। এ কারণেই মূলতঃ নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে পেরেছি আমরা।’

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০