Sports Bangla

সোনার ডিম পাড়া হাঁস!

সোনার ডিম পাড়া হাঁস!

সোনার ডিম পাড়া হাঁস!
এপ্রিল ০১
১৫:১৬ ২০১৫

ambiagroupআন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভারতের কাছে ব্রিক্রি হয়ে গেছে। আর এটা এখন নাকি- ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল। ১৯ মার্চ মেলবোর্নে বাংলাদেশ ও ভারত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পর এমন অভিমত সাধারণ দর্শকদের। তাদের বিশ্বাস সেদিন আম্পায়াররা বেশকিছু বির্তকিত সিদ্ধান্ত না দিলে বাংলাদেশই জিতত। ভারত বিশ্বকাপ থেকে বাদ হয়ে যাওয়া মানে আইসিসি উর্পজনের পথটাও বন্ধ হয়ে যাওয়া। কারণ ভারতে থেকে ৭০ শতাংশ অর্থ আয় করে থাকে আইসিসি। আর তাই আইসিসিতে ভারতের প্রভাবও সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ভারতের আছে ১২৫ কোটি জনগন। আর তাই আইসিসি ক্রিকেটের বিশ্বায়নের কথা চিন্তা না করে কীভাবে ভারতের জনগণকে ক্রিকেট ‘খাইয়ে’ অর্থ উপার্জন করবে, সেই চিন্তাই করে সব সময়।

অর্থ উপার্জনের জন্য আইসিসির সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ক্রিকেট বিশ্বকাপ। সুতরাং, বিশ্বকাপের শুরুতেই ভারত বাদ মানে, আইসিসির বিরাট লোকসান। ভারতকে যত দূর পর্যন্ত নেয়া যাবে, আইসিসির আয়ও তত বাড়বে। এসব কারণে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ছোট করতেও আপত্তি নেই আইসিসির। এমনকি বিশ্বকাপ হাস্যকর ফরমেশন দিতেও আপত্তি নেই তাদের।

Kwality (1)ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ৪টি গ্রুপে ভাগ খেলেছিল ১৬টি দল।  এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসর এবং সেরা ফরমেশন। প্রত্যেক গ্রুপে ৪টি দল একে অপরের সঙ্গে খেলেছে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের ২৪টি ম্যাচের পরেই ৮টি দল বাদ। আইসিসির জন্য দুঃখের বিষয় বাদ পড়া ওই ৮টি দলের একটি ছিল ভারত। এরপর শুরু হয় সুপার এইট। সেখানে ৮টি দল একে অপরের সঙ্গে খেলে (গ্রুপ পর্বের সঙ্গী বাদে)। এভাবে সুপার এইটে অনুষ্ঠিক হয় মোট ২৪টি ম্যাচ। সুপার এইট থেকে সেরা ৪টি দল নিয়ে  অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেমিফাইনাল এবং পরে ফাইনাল।

২০০৭ বিশ্বকাপে মোট ৫১টি ম্যাচ হয়েছিল। কিন্তু ওই বিশ্বকাপের ওই ৫১টি ম্যাচের মধ্যে ভারতীয় সমর্থকেরা আগ্রহ নিয়ে দেখেছে মাত্র ৩-৪ টি ম্যাচ। তাহলে কি পরিমাণ লোকসানের মুখোমুখি হতে হয়েছে আইসিসিকে, একবার চিন্তা করুন! টুর্নামেন্টের অর্ধেক না যেতেই যদি ১২৫ কোটি দর্শক হারায়, তাহলে পুরো ইভেন্টটাই ফ্লপ খাবে। তাই বিশ্বকাপের পরের আসরে পুরো ফরমেশনেই ব্যাপক পরিবর্তন আনে আইসিসি।

২০১১ এর বিশ্বকাপের ফরমেশন পরিবর্তন করে ১৪টি দল নিয়ে ২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক গ্রুপে ৭টি দল খেলেছিল একে অপরের সঙ্গে। এভাবে প্রতি গ্রুপে ২১টি ম্যাচ এবং ২ গ্রুপ মিলিয়ে ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ ৪২ ম্যাচ পর গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়। এবার ভারত ছোট দলের বিপক্ষে একটা ম্যাচ হারলেও কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা ছিল না।

Explore৬ ম্যাচের মধ্যে ৩-৪ টা জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত। আর ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে মানে গ্রুপ পর্বের ৪২ ম্যাচের পর কোয়ার্টার ফাইনালের ৪ ম্যাচেও দর্শক থাকবে। ২০১১ বিশ্বকাপে মোট ৪৯টি ম্যাচ হয়। ভারত হয় চ্যাম্পিয়ন। পুরো বিশ্বকাপেই নজর ছিল ভারতের ১২৫ কোটি জনগণের এবং বহির্বিশ্বের ক্রিকেট সমর্থকদের। আইসিসির সবচেয়ে লাভের মুখ দেখা বিশ্বকাপ, একই সঙ্গে  ভারতেরও!

সদ্য শেষ হওয়া ২০১৫ বিশ্বকাপের  ফরমেশনও ছিল ২০১১ এর মতো। গ্রুপ পর্বেই ১৪টি দলের মোট খেলা হয় ৪২টি। বিশ্বকাপের মোট ৪৯টি ম্যাচের মধ্যে ভারত নিশ্চিত ছিল প্রথম ৪২ ম্যাচ পর্যন্ত। এ সময়ে আইসিসি সারা বিশ্বের দর্শকদেরই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দলের পাশাপাশি ৪টি সহযোগী দলও ছিল সঙ্গে। সহযোগী দেশগুলো খেলেছে ২৪টি ম্যাচ। ম্যাচের ফলাফল যেমনই হোক, আইসিসির কাছে এগুলো স্রেফ লোকসান। যদিও গ্রুপ পর্বের ৪২ ম্যাচ পরে ভারত বাদ পড়তো, এরপরও আইসিসির কোন লোকসান ছিল না। কারণ তখন টুর্নামেন্টের  বাকি ছিল মাত্র ৭টি ম্যাচ।

তাই এবার ভারত হেরেছে ২য় সেমিফাইনালে। অর্থাৎ এরপর ছিল মাত্র ১টি ম্যাচ। টুর্নামেন্টের ৪৯ ম্যাচের ৪৮টা পর্যন্ত ভারত টিকে থাকল। যে কারণে আগ্রহ ছিল তাদের ভারতীয় দর্শকদের মাঝেও। আর ফাইনালের প্রতি আগ্রহ তো থাকবেই। তাই এই বিশ্বকাপেও আইসিসি দেখল বিশাল লাভের মুখ। ভারত ফাইনালে উঠলে আরেকটু বেশিই লাভ হতো। তবু, এই লাভেও যেন পোষাচ্ছে না আইসিসির। তাই ২০১৯ বিশ্বকাপকে নতুন ছক।

কেমন হবে ২০১৯ বিশ্বকাপ? তখন কোনো গ্রুপই থাকবে না। ৮টি দল সরাসরি সুযোগ পাবে, বাকি ২টি দল বাছাই পর্ব খেলে আসবে। এই ১০টি দল প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে খেলবে। এভাবে প্রথম পর্বে ম্যাচ হবে ৪৫টি। আগে সহযোগী দলর ‘অলাভজনক’ ম্যাচগুলো এবার না রাখার ব্যবস্থাই আইসিসি করে রেখেছে।

২০১৯ সালে খেলবে শুধু বড় দলগুলো। এমনকি ২০১৯ সালে সবাই একই গ্রুপে। ৪৮ ম্যাচের বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ৪৫ ম্যাচ পর্যন্তই সবগুলো দল বিশ্বকাপে টিকে থাকবে। ভারত যদি খারাপ খেলেও, তারপরও ৪৫ ম্যাচ পর্যন্ত ভারতের ১২৫ কোটি দর্শককে ধরে রাখতে পারবে আইসিসি। এরপর ভারত বাদ গেলেও আর অসুবিধা নেই।

এ জন্যই আইসিসি সহযোগী দলগুলোকে বিশ্বকাপে রাখতে চাচ্ছে না। ওরা থাকলে বিশ্বকাপের ৫০ ভাগ ম্যাচেই দর্শকদের আগ্রহ থাকে না। ২০১৯ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড নাও থাকতে পারে। অথচ আয়ারল্যান্ড ২০০৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে, ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে। আফগানিস্তান ধীরে ধীরে ক্রিকেটে উঠে আসছে। অথচ, তারাই কি না ভ্রাত্য হয়ে যাবে ক্রিকেটে।

যদিও আইসিসি মুখে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে, সম্প্রসারণের কথা বলে; কিন্তু ‘ভদ্রলোকে’র খেলা ক্রিকেটটা এখন স্রেফ টাকা বানানোর একটা যন্ত্র, আর তাইতো সোনার ডিম পাড়া হাঁস হলো ভারত।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১