Sports Bangla

সবাই ছুটছেন নতুন ঠিকানায়

সবাই ছুটছেন নতুন ঠিকানায়

সবাই ছুটছেন নতুন ঠিকানায়
সেপ্টেম্বর ১৯
০৩:৩৮ ২০১৫

Kwality (1)পেশাদার ফুটবলে চলতি মৌসুম শেষ হতে এখনো বাকি দেড় মাস। দলবদল নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এখনো কোনো উদ্যোগ নেই। স্বাধীনতা কাপ না হওয়াটা মোটামুটি নিশ্চিত হলেও শেখ কামাল গোল্ডকাপে খেলার কথা প্রিমিয়ার লিগের অন্তত ৪টি দলের। সুপার কাপ তালিকা থেকে বাদ দিলেও অক্টোবর মাস পর্যন্ত থাকছে চলতি মৌসুমের ব্যাপ্তি। এর মধ্যেই ক্লাবগুলো দেশীয় খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে শুরু করেছে তৎপরতা। সেই তৎপরতায় সাড়া দিয়ে নবীন ও অভিজ্ঞ সব ফুটবলারই নতুন ঠিকানায় নাম লেখাতে ছুটছেন।

এই ছোটাছুটিতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। দলটির দেশীয় তারকাদের ওপর নজর পড়েছে একাধিক ক্লাবের। তবে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানায় থাকা শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের তৎপরতাই সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিক শিরোপাপ্রত্যাশী দলটির জন্য। এ ছাড়াও কমবেশি থাবা পড়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডেরও। শেখ জামাল ছাড়া অন্য ক্লাব থেকেও ফুটবলার নিতে তৎপর ঢাকা আবাহনী। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবেও তারা হানা দিচ্ছে। শুধু জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার নয়, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা তরুণদের ওপরও তীক্ষ্ণ নজর রেখে পাইপলাইন শক্তিশালী করতে চাইছে এ সব ক্লাব।

Bright-sports-shop_bigফুটবলপাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাউর হচ্ছে শেখ জামালের গৃহদাহের খবর। দীর্ঘ সময় দেশীয়দের উপেক্ষিত রেখে বিদেশেীদের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে ক্লাবটি। মূলত সে কারণেই দেশীয়দের কিছুটা ক্ষোভ কাজ করছে ক্লাবের প্রতি। অনেকে সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে অতীষ্ঠ হয়ে ছোট দলে ছুটছেন। অনেকে নিজের কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পাওয়ায় যেতে চাইছেন ভিন্ন ঠিকানায়।

এই তৎপরতায় রয়েছেন- অধিনায়ক নাসির চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, মুনেম খান রাজু, ইয়ামিন মুন্না, মো. লিঙ্কন, ওয়েঙ্গার সোহেল রানা, সাখাওয়াত হোসেন রনি, গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল, তকলিস আহমেদসহ আরও কয়েকজন। যেই তালিকায় অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম ও ডিফেন্ডার ইয়াসিনের নামও শোনা যাচ্ছে জোরেশোরেই। এর মধ্যে ক্লাবের অনুমতি নিয়ে তকলিস যাচ্ছেন চট্টগ্রাম আবাহনীতে। ইয়াসিনেরও চট্টগ্রামের ক্লাবটিতে যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আর গোলরক্ষক সোহেল যাবেন ঢাকা আবাহনীতে। বাকি সবাই দলবেঁধে শেখ জামাল থেকে শেখ রাসেলে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও টিম বিজেএমসিতে খেলা নাবিব নেওয়াজ জীবন নাম লেখাচ্ছেন শেখ রাসেলে।

যদিও শেখ রাসেল ম্যানেজার জুয়েল রানা দলবদলে তাদের তৎপরতার কথা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দলবদলের তারিখই হয়নি, কোথা থেকে এ সব খবর আসছে জানি না। আমরা এ নিয়ে কোনো কাজ করিনি। কারও সঙ্গে যোগাযোগও হয়নি।’

শেখ জামাল ক্লাবের ম্যানেজার আনোয়ারুল করিম হেলালও স্বীকার করতে চাইছেন না গৃহদাহের কথা। তবে তৎপরতা যে একেবারেই চলছে না, তাও জোর দিয়ে বলতে পারেননি। তবে সময়ের আগে এখনই কিছু বলতে নারাজ তিনি। তকলিস ক্লাবের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই চট্টগ্রাম আবাহনীতে তা নিশ্চিত করেছেন শেখ জামাল ম্যানেজার।

বাকিদের ব্যাপারে তারাও শুনেছেন, তবে নিশ্চিত নন। খেলোয়াড়রা জিজ্ঞাসা করলে স্বীকার করছেন না। তাই এখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হেলাল। তবে এখনো খেলোয়াড়দের টাকা বাকি আছে অন্তত ৫ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত। শেষ অবধি এটাকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে শেখ জামাল। যদিও যারা ক্লাবে থাকবে না তাদের টাকা ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের দিয়ে দেবেন- জোরের সঙ্গেই এমন কথা বলেছেন হেলাল।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঈদের পর এ নিয়ে কথা বলবেন শেখ জামাল কর্মকর্তারা। তখন টাকা কিছু বাড়িয়ে দিয়ে হলেও অনেককে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আর কেউ যদি অগ্রিম চেক নিয়ে থাকে তখন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নিশ্চিত করেছেন আনায়ারুল করিম হেলাল।

তিনি বলেছেন, ‘ঈদের পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমরা কথা বলব। টাকা নিয়ে থাকলে তারা আমাদের বলবে, না দিয়ে থাকলেও বলবে। তাদের বলব তুমি চলতি মৌসুম আমার টিমে খেলবা, তুমি কী চাও? তখন চুক্তিপত্র দিলে যারা টাকা নিয়েছে তারা তো চুক্তি করতে রাজি হবে না। তখন বের হয়ে যাবে, কারা টাকা নিয়েছে, কারা নেয়নি। নিয়ে থাকলে সাইন করবে। তখন সাইন না করলে আমাদের যা করার করতে হবে।’

শুধু যে শেখ রাসেল ফুটবলার বাগিয়ে নিচ্ছে তাই নয়, তাদের দুর্গেও আঘাত হানছে অন্যরা। রাসেল থেকে অন্তত ৪ জন আবাহনীতে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এরা হলেন- জাহিদ হাসান এমিলি, ওয়ালী ফয়সাল, হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস ও তপু বর্মণ। এরা সবাই জাতীয় দলে খেলেন।

এর বাইরেও আবাহনীতে যাচ্ছেন জাতীয় দলের তরুণ ফরোয়ার্ড মোহামেডানে খেলা জুয়েল রানা। এ বছরই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে জুনে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে তার। কয়েক ম্যাচেই নজর কেড়ে স্থান পোক্ত করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। তাই মোহামেডানের চেয়ে কয়েকগুণ দামে আবাহনীতে ঘর বাঁধছেন তিনি।

জাতীয় দলে খেলা এ সব ফুটবলারের বাইরে তরুণদের নিয়েও চলছে টানাটানি। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যারা ভাল করেছেন তাদের কদর আছে সবদিকেই। আপাতত সেই দলের মধ্যে রোহিত সরকার, মাশুক মিয়া জনি, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মান্নাফ রাব্বি, বিপলু আহমেদ, সাব্বির আহমেদ সুমন ও টুটুল হোসেন বাদশাদের দিকে চোখ অনেকেরই। এখনো পর্যন্ত এরা সবাই দুই আবাহনী অথবা শেখ রাসেলের ফোন পেয়েছেন। তবে দু-একজন ছাড়া কেউই এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন- কোন দলে যাচ্ছেন।

বিকেএসপির রোহিত সরকারকে নেওয়ার ব্যাপারে তৎপর ঢাকা আবাহনী। এর বাইরে মোহামেডানের ইব্রাহিম তার সাবেক গুরু শফিকুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম আবাহনীতে। দুই আবাহনী ও শেখ রাসেল থেকে ডাক পেলেও সদ্য জাতীয় দলে ডাক পাওয়া জনি এবার মোহামেডানেই থেকে যেতে চান। দুই আবাহনী, শেখ রাসেল ও মুক্তিযোদ্ধা থেকে ডাক পেয়েছেন রহমতগঞ্জের মান্নাফ রাব্বি। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। শেখ জামালসহ একাধিক ক্লাব থেকে ডাক পাওয়া টুটুল হোসেন বাদশারও আবাহনী ছাড়ার ইচ্ছা নেই। বিজেএমসিতে খেলা সাব্বির আহমেদ সুমনও চট্টগ্রাম আবাহনী থেকে ডাক পেয়েছেন। তবে আপাতত ঢাকার বাইরে যেতে চান না তিনি।

সব মিলিয়ে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে দলবদল তৎপরতা। শেখ জামাল, শেখ রাসেল, ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে এবার দলবদলের মাঠে সক্রিয় চট্টগ্রাম আবাহনীও। নতুনভাবে দলটি চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাই তুলনামূলক ভাল ফুটবলারদের নিয়ে এবার টানাটানি একটু বেশিই। সে সিনিয়রই হোক আর জুনিয়রই হোক। তবে পর্দার আড়ালের এ সব তৎপরতার ভিত্তি কতটুকু বা শেষ অবধি কে কোন ঠিকানায় যান তার প্রমাণ মিলতে অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০