Sports Bangla

সবই এখন যেন শূন্য

সবই এখন যেন শূন্য

সবই এখন যেন শূন্য
নভেম্বর ৩০
০৬:২৫ ২০১৪

ambiagroupপথঘাট শান্ত৷ পাবেও লোকজন হইহল্লা করছে না৷ ক্রিকেট? যেন খেলতে ভুলেই গিয়েছে সিডনি থেকে ২৭০ কিলোমিটার উত্তরের ছোট শহরটা৷ ম্যাকসভিল থেকে ফিলিপ হিউজের মৃত্যুশোক বিদায় নেয়ার সুযোগটাই পাচ্ছে না৷

বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন টিভিতে প্রথম ঘোষণা হল হিউজের মৃত্যুর, তখন এই মফস্বলের বেশ কিছু মানুষ একটা পাবে৷ আনন্দে নয়, আলোচনা ঘোরাফেরা করেছে বিষাদেই৷ প্রিয় ফিলের কী হবে? সেই সময়েই মৃত্যু সংবাদে কেঁদে ফেলেছিল পুরো পাবটাই৷ নামবুক্কা হোটেলের সিমন ডনোভানের কথায়, ‘একটাও চোখ শুকনো ছিল না৷ সব ভিজে গিয়েছিল৷ আমরা সবাই কাঁদছিলাম৷ এই শহরের সবাই আঘাতটা পেয়েছে৷ ওদের পুরো পরিবারটাই কত সুন্দর ছিল৷’

ম্যাকসভিলের ছোট ছোট রাস্তা, ম্যাকসভিল হাই স্কুল, যেখানে পড়তেন হিউজ, অজস্র ‘ব্যাকইয়ার্ড’ যেখানে বল পিটিয়ে বড় হওয়া ক্রিকেটার হিউজের, আর তাদের পরিবারের ফার্ম- সবই থমকে দাঁড়িয়েছে৷ শোকে এখন শহরের তিন হাজার মানুষের একছত্র অধিকার৷ সব মানুষের স্মৃতিতে ভিড় ছোট্ট ফিলের বড় হয়ে ওঠা৷

Bright-sports-shop_bigসেই স্মৃতিতে কোথাও আদর, কোথাও সঙ্গী হতাশাও৷ আদর কারণ, মিষ্টি স্বভাবের ফিলকে ভালোবাসতেন সবাই৷ হতাশা-কারণ, হিউজকে আউট করতে পারত না বন্ধুরা৷ শহরের এক্স-সার্ভিসম্যান ক্লাবে খেলতেন হিউজ৷ তারও আগে রাস্তায় আর বাড়ি সংলগ্ন মাঠে৷ ইস্ট স্ট্রিট ওয়ারিয়র্স- রাস্তায় খেলে এই নামটাই ছিল হিউজ ও তার বন্ধুদের৷ যাদের মধ্যে ছিলেন ফিলের ভাই জ্যাসন৷ রোজ তারা ডুবে থাকতেন ক্রিকেটে৷ আর শুক্রবার ছিল ‘স্পেশ্যাল নাইট’৷ যে দিন বাগানে আলো জ্বালিয়ে রাত দু’টো পর্যন্ত চলত খেলা৷ পাড়ার সবার মুখে মুখে ঘুরছে শান্ত ফিলের মানসিক কাঠিন্যের গল্প৷ রিকি ল্যাভার্টি, সে রকমই এক বন্ধু৷ বলছিলেন, ‘একবার বাগানে খেলার সময় ঠিক হয়, জামাকাপড় শুকোনোর জন্য যে দড়ি খাটানো হয়, তার পোলে মারলে একবারে ৫০ রান৷ ফিল এক ইনিংসে ওই পোলে তিন বার মেরেছিল৷ কিছু বোঝার আগেই ওর ১৫০ রান হয়ে গেল৷’ এই রকম পাড়ার মাঠে খেলার জন্যই নাকি হিউজের অফসাইডের খেলা এত শক্তিশালী৷ কারণটা জানা গেল আরও এক ম্যাকসভিল বাসিন্দা অ্যান্থনি মাইলের কাছে৷ যিনি হিউজের থেকে প্রায় ১৫ বছরের বড়, পারিবারিক বন্ধু৷ তার কথায়, ‘বাঁ-হাতি হওয়ার জন্য লেগসাইডে ও খেলতে পারত না, ওখানে লেগসাইডে মারলেই বেশ কিছু জানলার কাচ ভাঙতে পারত৷ আমরা ছোট জায়গায় নিজেদের মতো নিয়ম তৈরি করতাম খেলার জন্য৷ কোনো নিয়মেই ওকে সহজে আউট করতে পারতাম না৷’ ক্রমাগত অফসাইডে স্ট্রে্াক খেলার জন্যই হিউজের হাতে ছিল বিশাক্ত কাট শট৷ প্রতিভার কাহিনি ছড়িয়ে পড়েছিল পাশের শহর বাউরাভিলেও৷ দুই শহরের মধ্যে ম্যাচে ১২ বছরের ফিলকে আউট করতে পারেনি প্রতিবেশীরা৷ বাউরাভিলের গ্যারি স্মিথের স্মৃতিচারণ, ‘আমরা ওকে থামাতে টিমের বাকিদের আউট করেছিলাম৷ ও হয়তো প্রচুর রান করেনি, কিন্ত্ত পরপর দু’টো ম্যাচ খেলেও ওকে আমরা আউট করতে পারিনি৷’

ছোটবেলার সেই সব বন্ধুরা এখন কেউ ম্যাকসভিলের বিদ্যুৎবিভাগের কর্মী, কেউ নিরাপত্তারক্ষী৷ হিউজ প্রতিভার জোরে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকসভিল ছেড়ে৷ টিন-এজ থেকে সিডনিতে৷ তারপর অস্ট্রেলিয়ার ছোটদের টিমের সঙ্গে সারা বিশ্ব ঘুরতে৷ কিন্ত্ত সবাই ফিলকে কাছে পেত, যখন গ্রামে ফিরতেন প্রয়াত ক্রিকেটার৷ বাবা গ্রেগের কলার ক্ষেত৷ পাশে ক্রিকেট খেলার অর্থ দিয়েই ফার্ম বানিয়েছেন ফিল৷ নাম ‘৪০৮’৷ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ৪০৮তম ক্রিকেটার হিউজ৷ সেটা মাথায় রেখেই৷ সবই এখন যেন শূন্য৷

পারিবারিক বন্ধু মাইলসের কথাই বোধহয় সত্যি৷ তার মন্তব্য, ‘ফিলের মৃত্যুটা এখনও মনে হচ্ছে যেন সত্যি নয়৷ সেটা আরও বেশি করে মনে হবে যখন সিডনি থেকে হিউজ পরিবার ফিরে আসবে, ফিলকে ছাড়াই৷’
kwality ice cream -1

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০