Sports Bangla

রোবোকপ হেলমেট!

রোবোকপ হেলমেট!

রোবোকপ হেলমেট!
নভেম্বর ২৭
১৬:২১ ২০১৪

ambiagroupহিউজের করুন মৃত্যুর পর মাথার হেলমেটই এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। কেন হেলমেট থাকার পরও বলটি গিয়ে সরাসরি তার মাথায় আঘাত করলো? হেলমেটের নিরপাত্তা ব্যবস্থা তাহলে কী। এর খুঁতগুলোই বা কী সে ব্যাপারটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসছে।

ইতিমধ্যে হিউজের হেলমেট প্রস্তুতকারক যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি মাজুরি দুঃখ প্রকাশ করেছে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি এবং তারা ঘোষণাও দিয়েছে হেলমেট পরিধান অবস্থায় কেন বলটি মাথায় আঘাত করলো সে কারণও তারা খুঁজে বের করবে।

মাজুরি বলছে, তারা যেসব হেলমেট বাজারজাত করে সেগুলোর মধ্যে নতুনত্ব আনা হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু ফিল হিউজ পরিধান করতেন পুরনো মডেলের হেলমেট। যা নতুনগুলোর চেয়ে অনেক কম নিরাপত্তামূলক। নতুন হেলমেট পরিধান করলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা ঘটেতো না। মাজুরি কর্তৃপক্ষ একটি গ্র্যাফিক্যাল চিত্র প্রকাশ করে ২০১৪ সালের নতুন এবং ২০১৩ সালের পুরাতন হেলমেটের পার্থক্য বুঝিয়ে দিয়েছে।

Bright-sports-shop_bigতারা জানিয়েছে, ২০১৪ সালের আগস্ট থেকেই নতুন মডেলের হেলমেট বিক্রি করছে। সেই হেলমেট না পরার কারণেই শিন অ্যাবটের ছোঁড়া বলটি গিয়ে আঘাত করে তার ঘাড়ের ঠিক ওপরে, কানের পাশে সংবেদনশীল জায়গায় এবং এ কারণেই এমন দুঃখজন অধ্যায় রচিত হয়ে গেল।

বিবিসি একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে এ নিয়ে। সেখানে তারা লিখেছে, ক্রিকেট মাঠে মাথায় বলের আঘাতে ফিল হিউজের মৃত্যুই যেন শেষ মৃত্যু হয়। এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা যেন আর না ঘটে। তারা হেলমেটের নকশায় পরিবর্তন এনে একে আরও নিরাপত্তামূলক এবং যুগপোযোগি হিসেবে গড়ে তুলতে।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেকানিক গবেষক রেনে ফার্ডিনান্ড বলেন, ‘আমরা মনে করি হেলমেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও নতুনত্ব আনা উচিৎ।’ কারণ, হিউজের মাথায় যেভবে বলটি আঘাত করেছে, তা বিরল। এমন ঘটনাও যেন আর না ঘটে, সে ব্যবস্থা যেন হেলমেটে রাখা হয়।

আলোচনায় উঠে আসছে হেলমেট বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর খামখেয়ালিপনার কথাও। তারা নাকি পুরনো নকশাকেই সব সময় প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আবার কোম্পানিগুলো অভিযোগ করছে, ক্রিকেটারদের কারণেই তারা নতুন নকশা করে হেলমেট বাজারে আনতে পারে না। কারণ, ক্রিকেটাররা পুরনো নকশাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

এর কারনও আছে। হেলমেটের ওজন কিংবা আকৃতি বড় হলে পরতে অসুবিধার কারণে ক্রিকেটাররা একটু হালকা হেলমেটই পছন্দ করে থাকেন। ২০০৯ সালে একটি ওয়ানডে ম্যাচে নতুন ধরনের একটি হেলমেট পরে মাঠে নেমেছিলেন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ব্রিস ম্যাকগ্রেইন।

অ্যালবিওন কোম্পানির তৈরি হেলমেটটি ছিল গবেষণালব্ধ নকশার ওপর ভিত্তি করে বানানো। ওটা ব্যবহার করে ম্যাকগ্রেইন ও অন্যান্য ক্রিকেটাররা মতামত দেওয়ার পরই অ্যালবিওন তা বাজারে ছাড়ত। নতুন ওই নকশাটি ম্যাকগ্রেইনের বেশ পছন্দ হয়। পুরো মাথার সুরক্ষা বিধান করা ওই হেলমেটটি কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাজারে আনতে পারেনি অ্যালবিওন।

ম্যাকগ্রেইনের পছন্দ হলেও তা পছন্দ হয়নি অন্যান্য ক্রিকেটারদের। ম্যাকগ্রেইন তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘আমি ওটা পরে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বিদ্রূপের শিকার হই। আমার সতীর্থরাও অদ্ভুত নকশার হেলমেটটি না পরার অনুরোধ করেছিল। শুনেছি, টেলিভিশন ধারাভাষ্যকাররা নাকি আমাকে ‘রোবোকপ’ নামকরণ করেছিল।’

বেশির ভাগ ক্রিকেটার পছন্দ না করার জন্যই নাকি ওই নকশাটি বাজারে আনতে পারেনি অ্যালবিওন। অথচ অনেক গবেষণা করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ সুরক্ষার ব্যবস্থাই ছিল ওই নকশায়। আইসিসিরও এ ব্যাপারে ভুমিকা স্পষ্ট নয়। মাত্র গত বছর আইসিসি ক্রিকেট হেলমেটের ব্যাপারে একটি বিশেষ নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।

এই বিশেষ নিরাপত্তা মানের ব্যাপারটি হলো হেলমেটের গ্রিল-সংক্রান্ত। এতে প্রস্তুতকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ফাঁকা অংশ দিয়ে বল যেন কোনোভাবেই ব্যাটসম্যানের মুখাবয়বকে আঘাত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ২০১৩ সালে গ্রহণ করা এই সুপারিশটি ছিল গত ১৫ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রথম কোনো সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ব্যাপারে আইসিসি যে কতটা উদাসীন, তার একটা বড় উদাহরণ হতে পারে এই তথ্যটি।

আইসিসিরও সম্ভব এ ব্যাপারে এবার টনক নড়বে এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও ক্রিকেটাররাও এ ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করবে।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১