Sports Bangla

মেসির জীবন

মেসির জীবন

মেসির জীবন
এপ্রিল ০২
১০:৩৬ ২০১৫

Exploreতার সময় কাটে কী করে? কীভাবে চাপ কাটান তিনি? এল ক্লাসিকোর খেলতে কেমন লাগে? কীভাবে গাড়ি চালিয়ে আসেন প্র্যাক্টিস করতে? একটি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক পত্রিকায় নিজের জীবন নিয়ে নিজেই নানা কথা বললেন মেসি। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সে কথাগুলোই…

থিয়াগোর আবির্ভাব: থিয়াগোর জন্মের পর আমার জীবন অনেকখানি বদলেছে। আমার জীবনে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ এখন আমার ছেলে। গত কয়েক মাসে ও কথা বলতে শিখেছে। এখন আমাদের কথা ও কিছুটা বোঝে। সবে তো দু’বছর ওর বয়স। তাই আমি কে, বা কী করি সেটা বোঝার বয়স ওর হয়নি। আন্তোনেল্লা আমাকে বলেছে, টিভিতে আমাকে দেখা গেলে থিয়াগো এখন চিনতে পারে।

রুটিন: আমি যখন ট্রেনিংয়ে যাই গাড়ি করে,তখন কখনওই দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাই না। খুবই ধীর গতিতে চালাই। আমার ড্রাইভিং ভালো লাগে। ট্রেনিংয়ের আগে আমার রিল্যাক্স করাটা এ ভাবেই হয়ে যায়। কোনও ম্যাচের আগেও এমনটাই করি। এটা আমার মনঃসংযোগে সাহায্য করে। ট্রেনিং শুরুর এক ঘণ্টা আগে মাঠে পৌঁছাই। এক সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করি। এরপর আমরা নিজের নিজের প্রস্তুতি শুরু করি। কেউ জিমে গিয়ে আধঘণ্টা কাটায়। কেউ ফিজিওর সঙ্গে কিছু স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করে। তারপর আমরা কয়েকজন চা খাই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশেষ এই চা তে ক্যাফিন খুব বেশি। কখনও মাঠে একটু ঘুরে বেড়াই। কখনও কোথাও একটু বসি। কখনও চা খেতে খেতেই গল্প করি। এর পর ট্রেনিং শুরু।

Kwality (1)সব চেয়ে গর্বের মুহূর্ত: যখন আমি কোনও দলের হয়ে ট্রফি জিতি। ট্রফি তোলার মধ্যে একটা অন্য ধরনের আনন্দ রয়েছে। আমি ফুটবলে সাফল্য পেতে চাই। আমি যখন খুব ছোট,রোজারিওর রাস্তায় ফুটবল খেলতাম,তখন কিন্তু,ভাবিনি এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারব। এ সব দূরের গ্রহের ব্যাপার বলে মনে হত। আমি খুবই গর্বিত যে আমার জীবনে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।

প্রথম ফুটবল স্মৃতি: রোজারিওর রাস্তায় ফুটবল খেলা,বন্ধুদের সঙ্গে। খুবই মজা হত। এর পর পাঁচ-ছ’বছর বয়সে স্থানীয় একটি ক্লাবের হয়ে প্রথম খেলার দিনটা মনে পড়ে। অবশ্যই বার্সেলোনার হয়ে অভিষেকের দিনটা এর পর আসবে। পোর্তোয় একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল।ন্যুক্যাম্পে প্রথমবার খেলার কথাও মনে পড়ে।

বার্সেলোনায় প্রথম খেলা: প্রথম ট্রায়াল দিই ১৩ বছর বয়সে। ১৫ দিন ছিলাম। মাঠের কাছে একটা হোটেলে। সেই সময়ের প্রতিটা দিনের কথা মনে করতে পারি।

ambiagroupড্রেসিং রুম: প্রত্যেকের নিজস্ব স্টাইল রয়েছে। সেই পোশাক পরেই সকলে আসে। আমার পছন্দ জিনস এবং টি শার্ট। এর পর আমরা ড্রেসিংরুমের নির্ধারিত জায়গায় পৌছাই। আমার ঠিক পাশেই দানি আলভেসের জায়গা। আমি যখন বার্সেলোনায় আসি,তখন থেকেই দানি আলভেসের সঙ্গে আমার পরিচিতি। আমরা এক সঙ্গে অনেকগুলো বছর বার্সেলোনায় কাটিয়ে দিলাম। মাঠ এবং মাঠের বাইরে আমার খুব ভালো বন্ধু ও। এই বন্ধুত্ব মাঠেও বোঝাপড়ায় সাহায্য করে। মাঠে একটা পরিবারের মতোই আমরা খেলি।

পিকে, ইনিয়েস্তা, সেস এবং লা মাসিয়া: আমি খুবই গর্বিত যে চার বন্ধু এক ক্লাবে,এক সঙ্গে খেলেছি। পিকে,ইনিয়েস্তা,ফ্যাব্রেগাস। ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা যদি এক সঙ্গে খেলতে পারে,তা হলে তার থেকে ভালো কিছু আর হতে পারে না। অনেকে বলেন পিকে অনেকটা জোকারের মতো। (হেসে ) এটা ঠিক ও অনেক সময় মজা করে। কিন্তু বলে পা পড়লে ও সিরিয়াস। খুবই পরিশ্রমী ও।

মানসিক প্রস্তুতি: আগের ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের দিন থেকে পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে শুরু করি। আমরা সকলেই এটা করি। আগের ম্যাচে কী ভুল হল,সেটা যেমন ভাবি,তেমন কোথায় কী ঠিক করলাম,তা নিয়েও আলোচনা হয়। আগপিছ করে ভাবতে পারাটা খুব জরুরি। ড্রেসিংরুমে আমি কোনও রকম ধর্মীয় সংস্কার মানি না। চিৎকার,চেঁচামেচিও করি না। শান্ত থাকার চেষ্টা করি। খেলার সময়ও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করি।

ম্যাচের পর রিল্যাক্স: খেলার পর সাধারণত আমি বাড়ি যাই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। খেলার পর অন্য কোনও খেলার মধ্যে দিয়ে আমি রিল্যাক্স করি না। টিভি দেখি। টিভিতে কখনও খেলা অবশ্য দেখি। যদি বড় কোনও ম্যাচ থাকে,বা অনেক ট্রেনিং করি,তা হলে আগে শুয়ে পড়ি। না হলে,আমি আন্তোনেল্লা আর থিয়াগো একই সঙ্গে শুতে যাই। তার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে সময় কাটাই।

এল ক্লাসিকোর লড়াই: ক্লাসিকো সব সময়ই আমার কাছে বিশেষ গেম। এর কারণ,এই খেলার সঙ্গে আমাদের মতো এখানকার মানুষও একাত্ম হয়ে যান। শুধু বার্সেলোনাতেই নয়, গোটা বিশ্ব এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। অদ্ভুত ভালো লাগে খেলতে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেমন ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা,তেমনই এই ক্লাসিকো ম্যাচ। দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এই ম্যাচে।

চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া: চাপ এবং ফুটবল আমাদের কাছে সমার্থক। ব্যক্তিগত ভাবে এই চাপ মানিয়ে নিতে আমি নিজেই নিজেকে সাহায্য করি। শান্ত এবং রিল্যাক্সড থাকার চেষ্টা করি। পায়ের নীচে ঘাস রয়েছে বুঝতে পারলে আমার ভালো লাগে। চাপ আমাকে আরও উন্নতি করতে সাহায্য করেছে। সত্যি বলতে , চাপ আমার ভালো লাগে। আমি চাপ কিন্তু অনুভব করি না।

দৈনন্দিন জীবন: অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন,আমি সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করতে পারি কি না। সত্যি বলতে আমার মনে হয়,অবশ্যই পারি। আমি যা চাই,তা করতে পারি। বার্সেলোনার মানুষজনও খুব ভালো। ওরা আমার সই,বা আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলেও কেউ আমাকে বিরক্ত করেন না। আর,এই সই, ছবি তোলা-এ সবে এখন আমি অভ্যস্ত। আর আমার চার দিকে কখনও লোকের ভিড় হয়ে গেলে,তা বেশ ভালোই লাগে।

অনুপ্রেরণা: যত দিন যাচ্ছে,তত আমার খেলার প্রতি প্রেরণায় সমস্যা হচ্ছে না।আমি যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখেছি,তা পুরোমাত্রায় কাজে লাগাতে চাই। টিমের হয়ে খেলা,টিমমেটদের সঙ্গে সম্পর্ক, ট্রফি জেতা,টিমমেটদের সঙ্গে ট্রেনিং- সবই এই শিক্ষার অঙ্গ। আমি প্রতিদিনই উন্নতি করছি। আমার উদ্দেশ্য গোল করে কারও রেকর্ড ভাঙা নয়। রেকর্ড হলে অবশ্যই ভালো লাগে। কিন্ত্ত আমার উদ্দেশ্য ট্রফি জেতা। টিমের জন্য আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করে ভালো রেজাল্ট করা।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১