Sports Bangla

মুখ খুললেন পন্ট

মুখ খুললেন পন্ট

মুখ খুললেন পন্ট
এপ্রিল ০৩
১৫:৪২ ২০১৫

Kwality (1)বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জের ধরে নির্বাসনে আছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০১৩ সালে এর দায় চেপেছিল তখনকার ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের কোচ ইয়ান পন্টের উপরও। ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে পন্ট সবিস্তারে বলেছেন ফিক্সিংয়ের নেপথ্যের সেই ঘটনা। ঐ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষই দাবি করেছেন পন্ট। ফিক্সিং নয়, বরং আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে (আকসু) সহযোগিতাই নাকি করতে চেয়েছিলেন তিনি। আর তাতেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। উঠে আসে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের খেলোয়াড় মোহাম্মদ আশরাফুলসহ আরও অনেকের নাম।

পন্ট বলেছেন, ‘শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, ওই দিন জিসান চৌধুরীর (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক) সঙ্গে আরেকজন লোক আমার কক্ষে এসেছিলেন। ওই সময় আমরা ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। জিসান আমাকে বলেছিলেন, আমরা চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচটি ফিক্স করব। তিনি একটি কাগজও এনেছিলেন, যেখানে সবকিছু বিস্তারিত লেখা ছিল ম্যাচের কোন জায়গায় কী করতে হবে।’

ambiagroupএসব শুনে বেশ ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন পন্ট। বলেছিলেন, ‘আমি বাড়ি যাব’। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মাথা ঘুরছিল। তাঁরা নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার জায়গায় অধিনায়ক ঠিক করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। তাঁরা জানত, মাশরাফি এই কাজের সঙ্গে আসবে না, কারণ এর আগেই মাশরাফি ম্যানেজমেন্টকে জানিয়ে দিয়েছিল, এমনকি বিষয়টি মিডিয়াতেও এসেছিল।’

পরদিন সকালেই পন্ট বিষয়টি জানিয়েছিলেন আকসুর কর্তা পিটার ও’শিকে। এরপর আকসুর কর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হোটেলে পন্টের রুমে লাগানো হয় কলম আকারের ভিডিও ডিভাইস, সঙ্গে অডিও ডিভাইস লাগানো হয় ড্রয়ারের মধ্যে। এরপর ফিক্সিংয়ের সব প্রমাণ সংগ্রহ করে তারা। ফিক্সিংয়ের ফাদে পড়া প্রসঙ্গে পন্ট বলেন, ‘ফিক্সিংয়ে জড়ানোর জন্য আমাকে টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। জিসান আমাকে ছয় হাজার মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছিলেন। তবে আমি এটা চাইনি। তাঁকে কেবল বলেছিলাম, আমার বেতন চাই। তাঁকে বলেছিলাম, চুক্তির দ্বিতীয় কিস্তি দিতে। ১০ হাজার মার্কিন ডলার বাকি ছিল। সেটা পেলেই খুশি হতাম। তিনি বললেন, এ নিয়ে ভাববেন না। কদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। এরপর অডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দিলাম। এটা পরিষ্কার, টুর্নামেন্ট শুরু আগে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমি কেবল আমার বেতনই চেয়েছিলাম।’

Exploreপন্ট এও জানালেন, সে ম্যাচে দলের বাইরে রাখায় মাশরাফি বেজায় চটেছিলেন। সে প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমাকে একটা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, হাঁটুর চোটের কারণে মাশরাফি খেলবে না। সেটি অমূলকও নয়। কারণ, মাশরাফি বহুদিন হাঁটুর চোটে ভুগছিল। তবে যখন আমি তাঁকে বিষয়টি বললাম, তখনই ভীষণ চটে গেল। রেগেমেগে সামনে থাকা পানির বোতলে লাথি মারল। আমার ধারণা, সে বুঝতে পেরেছিল কী হতে যাচ্ছে।’

কিন্তু পন্টের ভাষ্য মতে পরে বেতনের টাকা পাননি তিনি। ম্যাচের দুই দিন পর দলের খেলোয়াড় ও কোচদের খাম ভরে টাকা দেওয়া হয়েছিল। তিনি পেতেন ১০ হাজার ডলার। তবে খাম খুলে দেখেন ৬ হাজার ডলার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। কারণ, এটা তো সেই পরিমাণ অর্থ, যেটা আমাকে বলা হয়েছিল ফিক্সিংয়ের জন্য।’

সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপারটি পিটারকে জানিয়েছিলেন পন্ট। তবে পন্টকে জানানো হয়েছিল এটা বেতনের টাকা। বাকি চার হাজার ডলার পেয়ে যাবেন। কিন্তু পরে তা দেয়া হয়নি।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০