Sports Bangla

মিরাজে মাতোয়ারা চাঁটগা

মিরাজে মাতোয়ারা চাঁটগা

মিরাজে মাতোয়ারা চাঁটগা
জুন 11
16:02 2015

Kwality (1)চট্টগ্রামের দলের হয়ে এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা সতীর্থ মিনহাজকে কখনো ভুলতে পারবেন কিনা সন্দেহ মিরাজের। আবার মিনহাজও চাইবেন না তিনি ভুলে যান এই দিনটি। মিরাজের কারণে মিনহাজের নামটিও সমাহারে উচ্চারিত হচ্ছে। কী এমন হতো মিনহাজ যদি নোয়াখালীর শেষ ব্যাটসম্যান ইয়াসিনকে আউট না করলে? কিংবা চট্টগ্রামের ইমরুলও তো পারতেন ইয়াসিনের ক্যাচটি ছেড়ে দিতে। তাহলেই নোয়াখালীর সবকটি উইকেট লিখা হতো মিরাজুল হকের নামে। মিরাজের ৯ উইকেট শিকারের পাশাপাশি তাই বেশ আলোচনা হচ্ছে মিনহাজের ১ উইকেট পাওয়ার ঘটনাটিও।

মিরাজ কী মনে মনে মিনহাজকে বলছেন, ‘তুই ব্যাটা বড্ড পঁচা’। মিরাজের মুখেই শুনুন, ‘ওরা (নোয়াখালীর ব্যাটসম্যান) চেয়েছিল আমাকে ১০ উইকেট নিতে দিবে না, তাই মিনহাজের বলে ইচ্ছা করে ক্যাচ তুলে দেয়। নোয়াখালীর শেষ ব্যাটসম্যান (ইয়াসিন) যখন ক্যাচ তুলে দেন তখন প্রথমে এমন সুযোগ মিস হওয়ায় একটু কষ্ট কাজ করলেও পরে ভাবলাম যা হয়েছে তাও কম কিসে? এমনতো হতে পারতো আমি এক উইকেটও পেলাম না। তবে আমার মনে হয় আমার আজকে ১০ উইকেট না পাওয়ার বিষয়টি আমার চেয়ে আমার সতীর্থ, কোচ, ম্যানেজার, সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীদের বেশি আফসোসে ভুগাচ্ছে।’

ambiagroupস্বপ্নের দিন বলে ক্রিকেটে একটি কথা চালু আছে। কিন্তু একজন ক্রিকেটার বিশেষ করে পেস বোলারদের স্বপ্ন আমাদের দেশে দিবাস্বপ্ন বলেই অনেক বেশি বিবেচ্য। চলমান ঢাকা টেস্টে মাত্র একজন পেস বোলার খেলানো জ্বলন্ত প্রমাণ হতে পারে আমাদের দেশে পেস বোলাররা যে সবসময় সৎ ভাইয়ের মতো আচরণ পেয়ে অভ্যস্ত। সে অবস্থায় জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে একজন পেসারের ৫ উইকেট পাওয়ার স্বপ্ন দেখা অনেক বাড়াবাড়ি স্বপ্ন বলে বিবেচ্য।

কিন্তু ৩৫ তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মিরাজ প্রতিটি ম্যাচে যেভাবে উইকেট নিচ্ছেন তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। মিরাজ বান্দরবানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই নিলেন ৭ উইকেট। তাও অবিশ্বাস্যভাবে কোন রান না দিয়ে। মিরাজের সে কৃতিত্ব দেশের জাতীয় দৈনিক থেকে শুরু করে অনলাইন, সামাজিক মিডিয়ায় তোলপাড় করে ফেলে।

Explore1দ্বিতীয় ম্যাচে বিপক্ষ দল পাল্টায়। বান্দরবানের স্থলে রাঙামাটি। কিন্তু বিপক্ষ দল পাল্টালেও পাল্টায়নি মিরাজের বোলিং ক্ষুধা। রাঙামাটির বিপক্ষেও তুলে নেন ৭ উইকেট। এবার অবশ্য ৭ উইকেট শিকারের জন্য মিরাজকে রান খরচ করতে হয়। যাও আপাত অসম্ভব, ৭ ওভার বল করে ৪ মেডেনে ৭ রান দিয়ে ৭ উইকেট। আজ নোয়াখালীর বিরুদ্ধে ৯ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে নিয়ে নেন ৯ উইকেট। ৩ ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের রেকর্ড এখন মিরাজের ঝুলিতে।

আজিজুল হক ও মেহেরুন নেসার ঘর আলোকিত করে ১৯৯০ সালে জন্ম নেয়া একমাত্র ছেলে মিরাজের ক্রিকেটের হাতেখড়ি ২০০৬ সালে রাফি স্মৃতি ক্রিকেট দিয়ে ক্রিকেট কোচ ফিরোজ খানের হাত ধরে। মায়ের প্রচ- উৎসাহ আর বাবার নিষেধের মধ্য দিয়ে তরতর করে ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়া মিরাজের। ২০১১/১২ মৌসুমে খেলে জাতীয় লিগে। মাঝখানে বছর দু’য়েক ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকলে এতোদিন হয়তো মিরাজ জাতীয় দলে বা জাতীয় দলের আশেপাশে থাকতেন।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম-এ বিবিএ পড়া মিরাজ বর্তমানে সেরাজ ফোর এইচ ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান। যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সারাবছর অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ার জন্য এবং নিয়মিত উৎসাহ প্রদানের জন্য তিনি কৃতিত্ব দেন ফোর এইচ গ্রুপের এমডি জিএস জামিল, চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ চৌধুরী এবং স্পোর্টস বিভাগের ম্যানেজার তারেকুল হককে। মিরাজ নিজের ভবিষ্যতের ব্যাপারে জানান, ‘যখন সেখানেই সুযোগ পাই, চেষ্টা করবো নিজেকে মেলে ধরে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স করতে। নিয়মিত পারফরম্যান্স করতে পারলে বিভিন্ন দলে সুযোগ পাবো সেই বিশ্বাস আমার আছে।’

বাঁহাতি পেসাররা দলের জন্য অনেক বেশি সুযোগ এনে দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে যে হারে বাঁহাতি স্পিনার উঠে আসছে, উঠছে না বাঁহাতি সিমার। তাই মিরাজদের মতো প্রতিভাবানদের যদি যথাযথ যতœ ও পরিচর্চা করা হয় তাহলে দেশে পেস বোলারদের সংকট থাকবে না বলে ক্রিকেট বোদ্ধাদের অভিমত।

লেখক সম্পর্কে

আরিফুল হক

আরিফুল হক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

জুন ২০২১
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০