Sports Bangla

বিসিবির কাছে বাদল ইস্যুর সমাধান!

বিসিবির কাছে বাদল ইস্যুর সমাধান!

বিসিবির কাছে বাদল ইস্যুর সমাধান!
ডিসেম্বর 12
14:10 2014

ambiagroupক্রিকেট নিয়ে অনেক স্বপ্ন তার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই গড়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ওই ক্লাবের উদ্যোগেই লুৎফর রহমান বাদল ক্রিকেট কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকারকে বাংলাদেশে এনেছিলেন। শচিনের হাত দিয়েই যাত্রা শুরু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের। এই ক্লাবই নয়, লুৎফর রহমান বাদল যখন যেই ক্লাবের ক্রিকেটের দায়িত্ব পেয়েছেন; সেই দলকে সোনায় পরিণত করেছেন। ক্রিকেটের তার উত্থান অনেকেই মনে করেন আকাশচুম্বী। হয়তো সেখানে সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের জটিলতা। সাম্প্রতিককালে লুৎফর রহমান বাদলকে ঘিরে বাংলাদেশে যে অক্রিকেটীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে; তা ক্রিকেটের অমঙ্গল বৈ, মঙ্গল নয়। তবে এখনো সমাধানের পথ খোলা। একমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাহী কমিটিই পারে এর সহনীয় সমাধান দিতে।

পাল্টাপাল্টি ঘটনা-রটনার এখন যা দাঁড়িয়েছে; তাতে লুৎফর রহমান বাদল উত্তেজনাবশত ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’-এ যে অমার্জিত কথা বলেছেন, তার ১০ গুণ ছাপিয়ে গেছে অন্যদের কথা-বার্তা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক অনভিপ্রেত সিদ্ধান্তে। এক লুৎফর রহমানকে ঘায়েল করতে একটির পর একটি তীর ছোঁড়া হচ্ছে। সেখানে যতই দিন যাচ্ছে; নানামুখী কথা-বার্তায় মনে হচ্ছে লুৎফর রহমান বাদল ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রোশের শিকার হয়েছেন। ক্রিকেটবোদ্ধা অনেকেই মনে করেন বাদলের পিছু সবাই মিলে যেভাবে লেগেছে তাতে লিডেন্ডস অব রূপগঞ্জের কার্যক্রম অচিরেই স্থিমিত হয়ে পড়বে।

Kwality- Milestoneচলতি বিতর্ক নিয়ে নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি বলেছেন, ‘এটা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। আর তাতে কোয়াব ও বিসিবি সভাপতিকে টেনে আনা ঠিক হয়নি।’ বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান একটি মিডিয়ায় বলেছেন, ‘কোয়াবকে নিয়ে কাউকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এটা একটা পার্সোনাল ইস্যু, বাদল ভাইয়ের সঙ্গে সুজন ভাইয়ের ব্যক্তিগত ঝামেলার সিরিজ চলছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই এটি চলে আসছে। আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি দুই পক্ষকে বসিয়ে একটি সমাধান বের করতে, কাজ হয়নি। এখন তাদের দু’জনের ব্যক্তিগত ঝামেলায় কোয়াব বা বিসিবি সভাপতিকে নিয়ে আসা অনুচিত। এটা কোনোভাবেই হতে পারে না।’ সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল, সহসভাপতি ইফতেখার রহমান (মিঠু)সহ অনেকেই বিষয়টি জানতেন না।’

তার মানে বাদল ভার্সাস সুজন ইস্যুই জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করা হয়েছে। ঘটনার জের হিসেবে ৩ দিন আগে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের কর্ণধার লুৎফর রহমান বাদলকে। বিসিবি সভাপতি ও কর্তাদের উদ্দেশে তার গালাগাল নিন্দনীয় ছিল, ছিল মাত্রা ছাড়া। কিন্তু তার ওপর আরোপিত শাস্তিও কি মাত্রার বাইরে হলো না-এ বিতর্ক এখন ক্রীড়াঙ্গনে। যেখানে পাতানো ম্যাচ খেলার দায়ে কেউ আজীবন নিষিদ্ধ হন না সেখানে এ শাস্তি প্রশ্নবিদ্ধ। এর আগে মাঠে অনেক বড় বড় ক্রিকেটারকেও অশালীন গালাগাল করতে দেখা গেছে আম্পায়ার কিংবা প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়কে। এমনকি ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদনেও তা বলা হয়েছে। কিন্তু কয় জনার বিচার হয়েছে; তা কিন্তু অজানা নয়। তা হলে বাদলের বিরুদ্ধে এতো বড় সাজা কেন? প্রশ্ন ওঠেছে, লুৎফর গালিগালাজ করে শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু যারা প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করে অশালীন কথা বলেছেন, তারা কি শাস্তির ঊর্ধ্বে?

মোহমেডান, ভিক্টোরিয়া হয়ে শেষ পর্যন্ত গত আসরে নিজেই কিনে নেন একটি ক্লাব। তার সেই দল শিরোপা জিতেছে প্রথম আসরেই। এবার ওই দলের নাম পরিবর্তন করেছেন; গাজী ট্যাঙ্ক ক্রিকেটার্স পাল্টে রেখেছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ওই ক্লাবের সূচনা দিনে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার শচীনকে উড়িয়ে এনেছেন। এক কথায়, তার রাতারাতি আলোচনায় ওঠে আসা অনেকের কাছে শোভন মনে হয়নি। ফলে তাকে ঘায়েল করার জন্য ওঁৎ পেতে ছিলেন অনেকেই। অপেক্ষায় ছিলেন তার ভুলের।

শুধু তাই নয়, লুৎফর রহমান ছাড়াও ৫ বছরে জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন ক্লাবটির যুগ্ম সম্পাদক ও ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম টিটু এবং ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলটির কর্মকর্তা সাব্বির রহমান রুবেলও। এমনকি ফতুল্লা থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে ওই ঘটনায়। নতুন ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর (অব.) হোসেন ইমাম। মামলার প্রধান আসামি লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল, ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম ও সমন্বয়কারী সাব্বির আহম্মেদ। দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের প্ররোচনা ও নির্দেশে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী, বিসিবির দুই পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক ও খালেদ মাহমুদ এবং সাবেক ক্রিকেটার মো. আলীসহ বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা করা। এজাহারে আরও বলা হয়, নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার সদস্যদের বাধার মুখে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাস ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক বোর্ড পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ‘সাকিবের ব্যাপারে ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল বিসিবি। এবার ডিসিপ্লিনারি কমিটিই সিদ্ধান্ত নিল, তবে আমার মনে হয়েছে সবকিছু খুব তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটের সঙ্গে আছি। কিন্তু সর্বশেষ কবে একটি বড় ক্লাবের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আমার মনে পড়ে না। তারপরও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে তো বোর্ডের অনুমোদনের ব্যাপার আছে।’

Ambia all

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

আগস্ট ২০২১
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১