Sports Bangla

বিশ্বকাপের প্রথম ডাক-সেঞ্চুরি-টাই

বিশ্বকাপের প্রথম ডাক-সেঞ্চুরি-টাই

বিশ্বকাপের প্রথম ডাক-সেঞ্চুরি-টাই
নভেম্বর ১২
০৩:৫৪ ২০১৪

ambiagroupবিশ্বকাপ মানেই অন্যরকম রোমাঞ্চ। ভেঙে যায় বহু বছরের পুরনো রেকর্ড। সৃষ্টি হয় নতুন রেকর্ডের। যেগুলো অবলোকন করতে আপনাকে চোখ রাখতেই হবে বিশ্বকাপে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারীতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বসছে বিশ্বকাপের ১১ তম আসর। তার আগেই শুরু হয়েছে ক্ষণ গণনা, পাঠকদের জন্য বিশ্বকাপসম্ভার।

প্রথম টাইঃ অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা, সেমি ফাইনাল, এজবাস্টন, জুন ১৭, ১৯৯৯

১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনাল ম্যাচটি বিশ্বকাপতো বটেই ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসেই সেরা একটি ম্যাচ। যে ম্যাচটি হৃদয় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে প্রোটিয়াদের। ম্যাচ টাই হওয়ার ঘটনাও সেবার প্রথম দেখে বিশ্বকাপ। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা সেমির ২১৩ রানই আর টপকাতে পারল না। অথচ অ্যালান ডোনাল্ড ওই খ্যাপাটে দৌড়ে রান আউট না হলে হয়তো বিশ্বকাপ ট্রফিই উঠতো হ্যানসি ক্রনিয়ের হাতে।

Bright-sports-shop_bigরান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৫/৪। হাতে তখনো ৬ উইকেট। বলতে গেলে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। শেষের দিকে ৬ বলে দরকার পড়ে ৯ রানের। ওই বিশ্বকাপের আনসাং হিরো ল্যান্স ক্লুসনার তখনো ক্রিজে। শেষ ওভারের প্রথম বলে ২, পরের বলে চার মেরে ব্যবধান কমিয়ে আনেন তিনি। এক পর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জিততে দরকার হয় ৩ বলে ১ রান। একেবারে শেষ বলে ডোনাল্ড রান আউট হলে ম্যাচ টাই হয়ে যায়। নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে যায় স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়া। আর চোকার্স অপবাদ ভালভাবে সেটে যায় প্রোটিয়াদের গায়ে।

প্রথম সেঞ্চুরি: ড্যানিশ অ্যামিস
ইংল্যান্ড বনাম ভারত, লর্ডস, জুন ৭, ১৯৭৫

ইংলিশ ওপেনার ড্যানিস অ্যামিসের এই রেকর্ড কোনদিন কেউ ভাঙতে পারবেন না। ১৯৭৫ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে সবার আগেই সেঞ্চুরি করে বসেন তিনি। বিশ্বকাপ যতবারই আসবে ততবারই মনে পড়বে অ্যামিসের নাম। এটা এমন এক কীর্তি যা তাকে অমর করে রাখবে।

ভারতের বিপক্ষে অ্যামিস সেদিন ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ১৪৭ বলে। বাউন্ডারি মেরেছিলেন ১৮টি। আমিসের দুরুন্ত ইনিংসের সৌজন্যে ৬০ ওভারের ম্যাচে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে তুলেছিল ৩৩৪ রান। ভারত পুরো ৬০ ওভার খেলে ৩ উইকেটের বিনিময়ে তুলেছিল মাত্র ১৩২ রান।

প্রথম ৫ উইকেট: ডেনিস লিলি
অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান, হেডিংলি, জুন ৭, ১৯৭৫

ড্যানিস অ্যামিসের সেঞ্চুরির দিনে ৫ উইকেট পেয়ে যান অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ডেনিস লিলি। এটি ছিল বিশ্বকাপের তিন নম্বর ম্যাচ। লিলি ১২ ওভার বল করে মাত্র ৩৪ রান দিয়ে পান ৫ উইকেট। ৬০ ওভারে অস্ট্রেলিায়া তোলে ২৭৮/৭। সর্বোচ্চ ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন রস এডওয়ার্ডস।

ওই রান তাড়া করতে নেমে মাজিদ খান এবং আসিফ ইকবাল দুজনেই ফিফটি পেয়ে যান। ৪০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৭২ রান। কিন্তু লিলির অতিমানবীয় বোলিংয়ে ধ্বসংস্তুপে পরিণত হয় পাকিস্তান। মাত্র ২০৫ রানে অলআউট হয়ে যা তারা।

প্রথম হ্যাটট্টিক: চেতন শর্মা
ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড, নাগপুর, অক্টোবর ৩১, ১৯৮৭

তিন তিনটি বিশ্বকাপ পার হলেও হ্যাটট্টিকের দেখা মিলছিল না। শুধু তাই নয়, ওয়ানডে ফরম্যাটেও, ১৬ বছরের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক ছিল খুবই বিরল ঘটনা। তবে ৮৭’র বিশ্বকাপে এসেই দেখা মিলল হ্যাটট্রিকের। তাও একটি নয়, দুটি। সর্বপ্রথম ভারতের চেতন শর্মার দেখালেন বিরল কৃতিত্ব।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক করে বসেন তিনি। অথচ আগের ৫ ওভার খুবই সাদামাটা বোলিং করেছিলেন শর্মা। ষষ্ঠ ওভারে এসেই একে একে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ এবং ইওয়েন চ্যাটফিল্ডকে। ভারতও ওই ম্যাচ জিতে উঠে যায় গ্রুপের শীর্ষে।

প্রথম ডাকঃ হরিলাল শাহ
পূর্ব আফ্রিকা বনাম নিউজিল্যান্ড, এজবাস্টন, জুন ৭, ১৯৭৫

হরিলাল শাহ মাত্র তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। রান করেছেন সাকুল্যে ৬। সবমিলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বল খেলেছেন ৫৬টি। এই হরিলাল ছিলেন আবার পূর্ব আফ্রিকার অধিনায়কও। এত কম সময়ে একটি রেকর্ড গড়েছেন যেটি কারও পক্ষেই ভাঙা সম্ভব নয়। তবে রেকর্ডটি সম্মানের নয়, লজ্জার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যাটসম্যান যিনি ডাক বা শূন্য রানে আউট হয়েছেন।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০