Sports Bangla

বিদায় সাঙ্গা… বিদায়

বিদায় সাঙ্গা… বিদায়

বিদায় সাঙ্গা… বিদায়
আগস্ট ২৩
১৩:২১ ২০১৫

ambiagroupএকটা উইকেট পেলেন আনন্দ উল্লাসে ভেসে উঠবেন বোলার ফিল্ডাররা, এটাই নিয়ম; কিন্তু এ কী, উল্লাস তো দুরে থাক, ভারতীয় ক্রিকেটাররা সারি বেধে দাঁড়িয়ে গেলেন, সদ্য আউট হওয়া ব্যাটসম্যানটির সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার জন্য! সে এক অভাবনীয় দৃশ্য!! তবে, ঘটনার বর্ণনা শুনে যতটা না অবাক হবেন, তার চেয়েও বেশি বাস্তবতা উপলব্দি করতে পারবেন আউট হওয়া ব্যাটসম্যানটির নাম শুনে। তিনি কুমার সাঙ্গাকারা। ক্রিকেট ইতিহাসে ক্ষণকালের জন্য উদিত এক উজ্জ্বল দ্রুবতারা। যার রোশনাইতে শুধু দ্বীপদেশ শ্রীলংকা কেন, আলোকিত হয়ে উঠেছিল পুরো ক্রিকেট বিশ্বই।

অবশেষে, সময় আর নিয়মের কাছে হার মানতে হলো, যেমনটি হার মানতে হয় সব কিছুকেই। সেই ধ্রুবতারাও শেষ পর্যন্ত আলো বিলাতে বিলাতে খসে পড়ল ক্রিকেটাকাশ থেকে। কুমার সাঙ্গাকারা নামক নক্ষত্রটি আর উদিত হবে না। রঙ্গিন পোষাক তো সেই বিশ্বকাপের পরই তুলে রেখেছিলেন। এবার সাদা পোষাককেও বিদায় জানিয়ে দিলেন। চিরতরে তুলে রাখলেন ব্যাট-প্যাড। বিদায় সাঙ্গারা!! বিদায়!!!

Bright-sports-shop_bigবিদায় কতই না করুণ! কেউ না চাইলেও নিয়ম মেনে বিদায় নিতে হবেই। সে বিদায়টাই নিয়ে নিলেন ক্ষণজন্মা, অসামান্য, অসাধারণ এক ক্রিকেটার, কুমার সাঙ্গাকারা। কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলার বাকি খুব বেশি ছিল না (১৮ ওভার)। আরেকটু দেখে-শুনে খেললে হয়তো আরও একটা দিন সাদা পোষাকের সাঙ্গাকারাকে বাইশ গজে দেখতে পেতেন ভক্ত-দর্শকরা।

কিন্তু, রবিচন্দ্র অশ্বিনের হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া বলটি বুঝতেই পারেননি সাঙ্গা। খোঁচা দিতে গেলেন। ক্যাচ উঠে গেলো দ্বিতীয় স্লিপে। লুপে নিলেন মুরালি বিজয়। তাকে শ্রীলংকার ২য় উইকেটের পতন হয়ে গেছে, কিংবা জয়টা আরও ত্বরান্বিতও হয়ে গেছে ভারতের জন্য ঠিক; কিন্তু এক কিংবদন্তীকে ক্রিকেট মাঠের শেষ বিদায়টা জানতে কার্পণ্য করতে হবে কেন? করেননি ভারতীয় ক্রিকেটাররাও। সাঙ্গাকারাকে শেষ বিদায়টা তারা জানিয়ে নিজেদেরই যেন গৌরবান্বিত করে নিল।

আউট হওয়ার সাথে সাথে মুখটাও কেমন যেন মলিন হয়ে গেলো সাঙ্গাকারার। হেলমেট হাতে নিয়ে দ্রুত হাঁটলেন প্যালিভিয়নের দিকে। পুরো গ্যালারি তখন দাঁড়িয়ে। তুমুল করতালিতে শেষ বিদায় জানানো হলো শ্রীলংকার সত্যিকারের ‘দ্য লায়ন’কে।

শেষ দিকে মুখ তুলে গ্যালারির দিকে তাকিয়েছিলেন সাঙ্গা। হয়তো ওই চাহনিতে না বলা অনেক অভিব্যাক্তি। হয়তো শেষটায় এসে ভক্তদের ভালো কোন ইনিংস উপহার দিতে না পারার আক্ষেপ এবং সেই আক্ষেপ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার অব্যক্ত ভাষা। সবশেষে যখন প্যাভিলিয়নে ঢুকে যাবেন, তখন ব্যাটটা তুললেন। জবাব দিলেন দর্শক অভিবাদনের।

Exploreড্রেসিংরূমের প্রবেশ পথে সার বেধে দাঁড়িয়ে শেষ শুভেচ্ছাটা জানানো হলো সাঙ্গাকারাকে। ছল ছল চোখে, ক্রিকেটকে বিদায় বলে সাঙ্গাকারা ঢুকে গেলেন ড্রেসিং রূমে। সেই যে সর্বশেষ এই কিংবদন্তীকে দর্শকরা ব্যাট হাতে দেখলো, এটা শেষ। এরপর আর দেখা যাবে না তাকে।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান করে যখন ভারত ইনিংস ঘোষণা করে, তখন জীবনে শেষ বারেরমত ফিল্ডিং শেষ করে মাঠ থেকে উঠে যাচ্ছিলেন সাঙ্গাকারা। তখনই তার চোখ হয়ে উঠেছিল অশ্রুসজল। সমর্থকদের অভিবাদন বন্যায় ভিজতে ভিজতে যখন মাঠ ত্যাগ করছিলেন, তখনই দেখা গেছে কতটা বিমর্ষ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

এরপর জয়ের জন্য ৪১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ওপেনার কুশল সিলভার উইকেট হারায় শ্রীলংকা। দলীয় ৮ রানে এবং ব্যক্তিগত ১ রানে কুশল আউট হয়ে গেলে জীবনে শেষবারেরমত ব্যাট হাতে মাঠে নামেন কুমার সাঙ্গাকারা। এ সময় মাঠে নামার মুখে ব্যাট দিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাকে। একজন ক্রিকেটারের জীবনে যেন এটাই পরম চাওয়া-পাওয়া। বিদায়ের দিনে তার জন্য আকুল হবে ভক্তকুল, এমন ক্যারিয়ারই যে গড়তে চায় প্রত্যেক ক্রিকেটার!

সাঙ্গাকারা তেমনই একজন। যার বিদায় মেনে নিতে না পেরে, শ্রীলংকান সরকার পর্যন্ত তাকে অনুরোধ করেছিল, আরও কিছুদিন থাকতে, আরও কিছুদিন শ্রীলংকার ক্রিকেটকে কাঁধে তুলে নিতে; কিন্তু নীতি এবং কথার প্রতি চরম নিষ্ঠাবান সাঙ্গাকারা, সরকারের অনুরোধও রাখতে পারলেন না। ঘোষণা অনুযায়ী বিদায় নিচ্ছেন, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেই।

বিদায়ের ইনিংসে কত করলেন তিনি? সেটা অবশ্য পরিসংখ্যানের বইতেই থাকবে। ভক্তরা জানতেও চাইবে না। এমনকি এই ইনিংস দিয়ে পরিমাপও করবে না। ডন ব্র্যাডম্যানের শেষ ইনিংসটা দিয়ে কি কখনও তাকে পরিমাপ করে কেউ? ওটা তো একটা ট্র্যাজেডি। শূন্য রানে আউট না হলে, সর্বকালের সেরা ওই ব্যাটসম্যানের গড় হয়ে যেতো ১০০। কিন্তু, সেটা হয়নি। ট্র্যাজেডির শিকার বলে। তাতে তো জাত-কুল কিছু যায়নি ব্র্যাডম্যানের।

সাঙ্গাকারার জন্যও এই ইনিংসের রান সংখ্যায় কিছু আসবে যাবে না। ইনিংস বড় করতে পারলে সেটা তো বোনাসই হতো। যা করেছেন, সেটাই ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। বড় ইনিংস খেলতে না পারার কারণে, হোক না এটাও একটা ট্র্যাজেডি!

তবুও, জানার জন্য বলা। বিদায়ী ইনিংসে খেলেছেন মাত্র ১৮ বল। বাউন্ডারিই মেরেছেন তিনটি। রান! ১৮। এরপরই হন্তারক অশ্বিনের আবির্ভাব। ইনিংসের ৯ম ওভারের ৫ম বলেই সাঙ্গাকারার ক্যারিয়ারের বিদায়ী বলটার ডেলিভারি দিয়ে দিলেন তিনি।

২০০০ সালে গলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক সাঙ্গাকারার। এর মাঝে খেলেছেন ১৩৪টি টেস্ট। ২৩৩ ইনিংসে রান করেছেন ১২ হাজার ৪০০। সেঞ্চুরি ৩৮টি। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, ৫২ টি। সর্বোচ্চ ৩১৯ রান। গড় ৫৭.৪০ করে।

একই মাঠে একই সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। এরপর খেলেছেন মোট ৪০৪টি ওয়ানডে। ৩৮০ ইনিংসে রান করেছেন ১৪ হাজার ২৩৪ রান। সর্বোচ্চ ১৬৯। সেঞ্চুরি: ২৫টি। হাফ সেঞ্চুরি: ৯৩টি। গড়: ৪১.৯৮ করে।

টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজারের বেশি রান করেছেন, এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে শিব নারায়ন চন্দরপলছাড়া শেষ ব্যাটসম্যান ছিলেন সাঙ্গাকারাই। শেষ পর্যন্ত তিনিও বিদায় নিয়ে নিলেন। চন্দরপলের ক্যারিয়ার প্রায় শেষ। অবসরের ঘোষণা না দিলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তিনি এখন ভ্রাত্য।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০