Sports Bangla

ডালমিয়ার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান ভারত

ডালমিয়ার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান ভারত

ডালমিয়ার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান ভারত
সেপ্টেম্বর ২১
০৪:১০ ২০১৫

ambiagroupভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) সভাপতি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক সভাপতি জাগমোহন ডাল মিয়ার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে গোটা ভারত ।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে টুইটারে রাজনীতিবিদ, সাবেক ক্রিকেটারসহ অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। যেই তালিকায় রয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি অমিত শাহ ও পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। ক্রিকেটে ডালমিয়ার অবদানের কথা স্বরণ করেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ডালমিয়াকে বাংলার বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই ক্রিকেট সংগঠকের আত্মার শান্তিও কামনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া তার প্রয়াণের সংবাদে হাসপাতলে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা।

Bright-sports-shop_bigরাজনীতিবিদ ছাড়াও সাবেক ক্রিকেটার, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডসহ সর্বত্র এখন শোকের ছায়া। অনেকেই তাকে ভারতের ইতিহাসে সেরা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন ডাল মিয়া ক্রিকেটকে সাদা রঙের মানুষের প্রভাবমুক্ত করেছেন।

ডালমিয়ার জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ মে কলকতায়। কেবল ভারত নয়, সারা বিশ্বের একজন সেরা ক্রিকেট প্রশাসক তিনি। ক্রিকেটকে বৈশ্বিক একটি খেলায় রূপান্তরে তার অবদান অনেকের চেয়ে বেশি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যে আজকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বোর্ডগুলোর একটি তাও তার কল্যাণে।

১৯৭৯ সালে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড’র (বিসিসিআই) আঙ্গিনায় পা রাখেন জগমোহন ডালমিয়া। ১৯৮৭ সালে ভারতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয় তার বদৌলতেই।

১৯৯৭ সালে ডালমিয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। আবার ফিরে আসেন বিসিআইসিতে। ২০০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু  একপর্যায়ে মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেট থেকে তিনি অনেকটা ছিটকে পড়েন। কিন্তু অপার সাংগঠনিক দক্ষতায় তিনি আবার ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ পদে ফিরে আসেন।

ভারতীয় ক্রিকেটে দুর্নীতিসহ নানা ঘটনায় বিতর্কিত শ্রীনিবাসন পদত্যাগ করলে ২০১৩ সালের জুনে বিসিসিআই’র অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন ডালমিয়া। পরে শ্রীনিবাসন ২০১৩ সালের অক্টোবরে আবার বিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট হন। তার বিদায়ের পর ২০১৫ সালের মার্চে আবার ভারতের ক্রিকেট মসনদে ফিরে আসেন ডালমিয়া।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন নিরন্তর বন্ধু ছিলেন ডালমিয়া। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন প্রতিবেশী ক্রিকেটের জন্য। ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে। ওই সময় তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অনেকেই বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস দেয়ায় নাক ছিটকালেও ডালমিয়া তাতে কান দেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রায়শই বলতেন, ‘ডালমিয়ার সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া দুরূহ ছিল।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসকদের সঙ্গে তার খুব সম্পর্ক সম্পর্ক সব সময়ই উষ্ণ ছিল। তার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আইসিসি সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের সঙ্গে চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসনের ঘটনায়। ভারত- বাংলাদেশের সেই ‘বাঁচা মরার’ ম্যাচে ভারতকে জেতানোর ‘বিতর্কিত’ কৌশলের বিরুদ্ধে মোস্তফা কামাল কথা বলায় ‘ক্ষুব্ধ’ হন শ্রীনিবাসন। যার জের হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি বিতরণ থেকে বিরত রাখা হয় মোস্তফা কামালকে।

র প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন তিনি। আইসিসি সভাপতি হিসেবে মোস্তফা কামালকে জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে না দেয়ায় ভারতীয় মিডিয়া মুণ্ডুপাত করে শ্রীনিবাসনের। ওই সময়ে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে কালো মেঘ দেখা দিলেও ডালমিয়ার কল্যাণে তা উড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভারত পূর্ণ-শক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশে খেলতে আসে।

মৃত্যু জগমোহন ডালমিয়াকে আমাদের কাছ অনেক দূরে নিয়ে গেছে। কিন্তু তার কর্ম আমাদের কাছে চিরঞ্জিব হয়ে থাকবে।

explore

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০