Sports Bangla

জিতলেন রোনালদোই

জিতলেন রোনালদোই

জিতলেন রোনালদোই
জানুয়ারি ১২
১৯:৫৩ ২০১৫

royal-magnum_bigরিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা রোনালদোই জিতলেন ২০১৪ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ফিফা ব্যালন ডি’অর। সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গালা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোনালদোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেফ ব্ল্যাটার।

ব্যালন ডি’অরের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় রোনালদো ছাড়াও ছিলেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি, বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান বিশ্বজয়ী গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়ার। তবে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই দুই ফুটবলারকে হারিয়ে ঠিকই বর্ষসেরার শিরোপা জিতে নিলেন রোনালদো।

সাফল্যে ভরা একটা বছর শেষ করতে পেরে আরও যেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন রোনালদো। সামনে আরও সাফল্যের প্রত্যাশায় তিনি বলেন, “এটা ছিল অসাধারণ একটা বছর। যে কাজটি এতদিন করেছি, সেটি চালিয়ে যেতে চাই। যত দিন যাবে, আরো উন্নতি করার, আরো ভালো হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই। আমি কখনই ভাবিনি যে আমি তিনবার এই ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবো। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হতে চাই আমি।”

কোচ আনচেলত্তির অধীনে ফুটবল উপভোগ করার কথাও বলেন রোনালদো। সঙ্গে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের আনন্দের স্মৃতিচারণ করেন, “কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে কাজ করা ভীষণ আনন্দের। চমৎকার একটি বছর ছিল। যখন মাদ্রিদে এসেছিলাম, আমরা সবাই দেসিমার চাপ অনুভব করেছিলাম। সম্ভবত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাটা ছিল গত বছরের সেরা মুহূর্ত। এটা ছিল চমৎকার। এটা সব ভক্ত, মাদ্রিদের সব সমর্থকের জন্য। এটা পাওয়ার যোগ্য তারা।”

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এবং মোট তিনবার ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন রোনালদো। এর আগে ২০১৩ সালের বর্ষসেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এবং ২০০৮ সালে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন তিনি।

শুধু তাই নয়, এবার নিয়ে সর্বশেষ সাত বছর ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিলেন মেসি এবং রোনালদো। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন বার্সা তারকা লিওনেল মেসি। গত বছর তাকে হারিয়ে পুরস্কারটি জিতে নেন রোনালদো।

Milestone-wedding-1-main colorমূলতঃ সর্বশেষ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্সলিগসহ রিয়াল মাদ্রিদকে চারটি শিরোপা উপহার দেওয়ার সঙ্গে সর্বাধিক ৬১টি গোল করেছিলেন তিনি। লিওনেল মেসি নিজের দেশ আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুললেও শিরোপা জিততে পারেননি। শুধু তাই নয়, ক্লাবের হয়েও কোন কিছুই জিততে পারেননি তিনি গত বছর।

সে হিসেবে ম্যানুয়েল ন্যুয়ারই ছিলেন রোনালদোর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। কারণ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু রোনালদো মেসির জনপ্রিয়তার কাছে হার মানতে হয় তাকে।

সেরা গোলদাতার পুরসকার, ফিফা পুসকাস অ্যাওয়ার্ড পেলেন কলম্বিয়ান সেনসেশন হামেশ রদ্রিগেজ।

ফিফা ব্যালন ডি’অরের প্রবর্তন ২০১০ সালে। প্রথমবারেই এই পদক জিতেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সুপারস্টার লিওনেল মেসি। ওই বছর দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থানে যথাক্রমে ছিলেন স্পেনের দুই তারকা ফুটবলার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভি। পরবর্তী ২ বছরও মেসির দখলেই থেকেছে ব্যালন ডি’অর। এই ২ বছর দ্বিতীয়স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পুর্তগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১১ সালে জাভি এবং ২০১২ সালে ইনিয়েস্তাকে তৃতীয়স্থানে থেকে খুশি হতে হয়েছে। ২০১৩ সালে মেসির রাজত্বের ইতি ঘটিয়েছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জিতে নিয়েছেন ব্যালন ডি’অর; মেসিকে এবার খুশি থাকতে হয়েছে দ্বিতীয় হয়ে। আর বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি ফুটবল তারকা ফ্রাঙ্ক রিবেরি হয়েছেন তৃতীয়। প্রবর্তনের পর থেকে তাই ব্যালন ডি’অর হয়ে থেকেছে মেসি-রোনালদোরে দ্বৈরথে জমে ওঠেছে! সঙ্গে স্পেনের দুই বিশ্বসেরা ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিনিধিদের জয়-জয়কার এখানে। কেবল একবারই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এই রাজ্যে ঢুকতে পেরেছিল। এবারে অবশ্য ম্যানুয়েল ন্যয়ারের বদৌলতে আরেকবার বার্সা-রিয়ালের পাশে বায়ার্নও জায়গা করে নিতে পেরেছে ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রতিযোগিতায়।

Bright-sports-shop_bigব্যালন ডি’অর কি? ফুটবল ভক্ত মাত্রই সবার এটা খুব ভাল করেই জানা। তবে ব্যালন ডি’অরের পিছনের ইতিহাসটা হয়তো অনেকের নাও জানা থাকতে পারে। যারা এই ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, তাদের জন্য বলা- প্রতিবছর একজন বিশ্বসেরা ফুটবলারকে পুরস্কৃত করার উদ্দেশ্যে ১৯৯১ সালে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নামে একটি পদক প্রবর্তন করেছে ফিফা। আগের বছর ফুটবল মাঠে পারফরমেন্সের আলোকে কোচদের ভোটে বেছে নেওয়া হতো একজন সেরা ফুটবলারকে। প্রতি কোচ ৩টি করে ভোট (পজিশনাল ভোটিং সিস্টেমে) দিতে পারতেন। এই ৩টি ভোটের পয়েন্টমূল্য ছিল যথাক্রমে ৫, ৩ ও ১। কোচদের ভোটাভুটি শেষ হওয়ার পর ফুটবলাররা যে পয়েন্ট অর্জন করতেন এর ভিত্তিতেই বেছে নেওয়া হতো বর্ষসেরা ফুটবলারকে।

‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ প্রবর্তনের পর প্রথম বিজয়ী হয়েছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার ম্যাথুস (ইন্টার মিলান)। এর পর ক্রমান্বয়ে একে একে এই পদক জিতেছেন-নেদারল্যান্ডের মার্কো ফন বাস্তেন (এসি মিলান), ইতালির রবার্তো ব্যাজিও (জুভেন্টাস), ব্রাজিলের রোমারিও (বার্সেলোনা), যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ উইয়া (এসি মিলান ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইন), ব্রাজিলের রোনালদো (৩ বার-১৯৯৬, ১৯৯৭ ও ২০০২; বার্সেলোনা, পিএসভি এডিনহোভেন, ইন্টার মিলান ও বার্সেলোনা), ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান (৩ বার-১৯৯৮, ২০০০ ও ২০০৩; জুভেন্টাস), ব্রাজিলের রিভালদো (বার্সেলোনা), পর্তুগালের লু্‌ইস ফিগো (রিয়াল মাদ্রিদ), ব্রাজিলের রোনালদিনহো (২০০৪ ও ২০০৫; বার্সেলোনা), ফ্যাবিও ক্যানাভারো (রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস), ব্রাজিলের কাকা (এসি মিলান), পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) এবং লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা)।

২০১০ সালে এই ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ পদকই রূপান্তরিত হয়েছে ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ পদকে। এই রূপান্তরের পিছনেও রয়েছে এক ইতিহাস। ফিফা যখন ১৯৯১ সাল থেকে বিশ্বসেরা একজন ফুটবলার নির্বাচন করতে শুরু করেছে, তখন অনেক বছর ধরেই ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারকে ‘ব্যালন ডি’অর’ নামে পদক প্রদান করে আসছিল ‘ফ্রান্স ফুটবল’ নামের একটি ম্যাগাজিন। সেরা ফুটবলার নির্বাচনে সহকর্মীদের ভোট বিবেচনা করতেন ম্যাগাজিনটির প্রধান লেখক গ্যাব্রিয়েল হ্যানো। ১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’ওর প্রদান করে ফ্রান্স ফুটবল। পদক জিতেছেন ইংলিশ ফুটবলার স্যার স্ট্যানলি ম্যাথুস। এরপর একে একে অনেকেই এই পদক জিতেছেন। কিন্তু পদকটি কেবলমাত্র ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের জন্য নির্ধারিত ছিল। যে কারণে ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে বা আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনার ভাগ্যে ব্যালন ডি’অর জয়ের সৌভাগ্য হয়নি। তবে ১৯৯৫ সালে এই নিয়মে পরিবর্তন ঘটে; ইউরোপীয় দেশের নাগরিক না হলেও ইউরোপিয়ান কোনো ক্লাবে ফুটবল খেলার সুবাদে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবলাররা ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিবেচনায় আসতে শুরু করে। জোহান ক্রুইফ, মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন তিনবার করে এই পদক জিতেছেন। এর মধ্যে প্লাতিনি একমাত্র ফুটবলার যিনি একাধারে তিনবার এই পদক জিতেছেন। প্রথম নন-ইউরোপিয়ান ফুটবলার হিসেবে ১৯৯৭ সালে এই পদক জয় করেছেন ব্রাজিলের রোনালদো। তিনি দুবার (১৯৯৭ ও ২০০২)এই পদক জিতেছেন। এরপর নন-ইউরোপিয়ানদের মধ্যে পদকটি আরো যার জিতেছেন তারা হলেন-ব্রাজিলের রিভালদো, রোনালদিনহো, কাকা এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। সর্বশেষ মেসিই এই পদক জিতেছেন, ২০০৯ সালে। ২০০৮ সালে জিতেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

২০১০ সালে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ ও ‘ব্যালন ডি’অর’ পদক দুটি একীভূত হয়েছে। দুই পদকের সমন্বয়ে প্রবর্তিত নতুন পদকের নাম করণ করা হয়েছে ‘ফিফা ব্যালন ডি’অর’ পদক।

Ambia all-

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০