Sports Bangla

চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খেলাধুলা!

চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খেলাধুলা!

চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খেলাধুলা!
অক্টোবর ২৫
২২:১৮ ২০১৩

p-3-428x300চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলাতে খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আগের মতো আর খেলাধুলা হয় না উপজেলাগুলোতে। অথচ একসময় এইসব উপজেলাগুলো থেকেই উঠে আসত দেশবরেণ্য কৃতী খেলোয়াড়রা। এখনো আসে, তবে এই আসাটা অনেক কমে গেছে খেলাধুলার আয়োজন তেমন না থাকার কারণে।
উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা আয়োজনে রয়েছে আলাদা আলাদা ক্রীড়া সংস্থা। এসবের নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) উপর। কিন্তু সিজেকেএসের তদারকি এবং কার্যকর কোনরকম উদ্যোগে সেভাবে নজরে পড়ছে না এখনো। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোও নানাকারণে আগ্রহ হারাচ্ছে খেলাধুলা আয়োজনে। একদিকে তাই খেলাধুলা থেকে যেমন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে খেলোয়াড় সংকট। যার প্রভাব পড়ছে চট্টগ্রাম তথা দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও।

সিজেকেএস ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার মধ্যে রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, মিরশ্বরাই, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, লোহাগাড়া, পটিয়ার অংশগ্রহণ দেখা যায় শুধু ফুটবল এবং ক্রিকেটে। আনোয়ারা শুধু ক্রিকেট এবং বাঁশখালী শুধু ফুটবল নিয়েই আছে। ফটিকছড়ি ফুটবল-ক্রিকেটের গন্ডি পেরিয়ে কাবাডিতেও অংশ নেয়। চন্দনাইশ আর সাতকানিয়া খেলা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন।

সিজেকেএস থেকেও তেমন সাহায্য সহযোগিতা পায় না উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো। সিজেকেএস’র নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ক্রীড়া সংগঠনগুলোর প্রতিবছর আউটডোর ৩টি গেমসে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। নয়তো কাউন্সিলরশিপ বাতিল। কিন্তু উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য এরকম কোন নিয়ম নেই। এসবও পিছিয়ে পড়ার কারণ বলে মনে করেন ক্রীড়াসংশ্লিষ্টরা।
বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন জানান, ‘দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব। সরকারি বা প্রশাসনিক কোনরকম আর্থিক অনুদান নেই। তাই উপজেলাগুলোতে খেলাধুলার আয়োজন কমে যাচ্ছে। সরকার, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্থা, সংগঠন সবাই যদি এক হয়ে পরিকল্পিত কোন উদ্যোগ না নেয়। তাহলে উপজেলাগুলোতে খেলাধুলাই কমে যাবে।’

সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে উপজেলাগুলোতে খেলাধুলা আয়োজনে সিজেকেএসের কোন উদ্যোগ নেই। নিয়মিত খেলাধুলার বিভিন্ন আয়োজন করতে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। সংস্থা বা স্থানীয়দের থেকে সেভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। যেকারণে উপজেলাগুলোতে সেভাবে খেলাধুলা আয়োজন করা যায় না। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় উঠে আসছে না আগের মতো। ফলে জাতীয় দলগুলোতেও খেলোয়াড় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
সিজেকেএসের সাথে সমন্বয়সাধন এবং উপজেলা সংস্থাগুলোর আরো বেশি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে সিজেকেএস কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ফুটবল সম্পাদক আল্লামা মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করা হচ্ছে সিজেকেএসের পক্ষ থেকে। ভবিষ্যতে যাতে খেলোয়াড় সংকট না হয় সেই লক্ষে উপজেলাগুলোতে তদারকি বাড়াব এবং বিভিন্ন খেলাধুলা আয়োজনের উদ্যোগ নেব সংস্থার পক্ষ থেকে। তবে উপজেলাগুলোতে ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদেরও উদ্যোগী হতে হবে ক্রীড়াঙ্গন সক্রিয় রাখতে।’

লেখক সম্পর্কে

সঞ্জয় বাবু

সঞ্জয় বাবু

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০