Sports Bangla

ইতিহাস গড়া জয়

ইতিহাস গড়া জয়

ইতিহাস গড়া জয়
জুলাই ০৭
১০:৪০ ২০১৫

ambiagroupগৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট। কথাটাকে সবচেয়ে মহিমান্বিত করেছে সম্ভবত পাকিস্তান। যাদের নামই হলো আনপ্রেডিক্টেবল। কোন ভবিষ্যৎবানী করা সম্ভব নয় এই দলটি সম্পর্কে। বর্ষার আকাশের মতই অনিশ্চিত। কখনো কালো মেঘ তো, কখনো বৃষ্টি আবার কখনো উজ্জ্বল আকাশ। একই দিনে বারবার রং পরিবর্তন করে। ঠিক তেমনই পাকিস্তান। নিশ্চিত যে ম্যাচে হেরে যাচ্ছিল, সেই ম্যাচই রেকর্ড গড়ে জিতে নিল অবিশ্বাস্যভাবে, ৭ উইকেটের ব্যবধানে। দিনের তখনও বাকি ৫৭.৫ ওভারের খেলা।

পাল্লেকেলের ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এই রূপেই দেখা গেলো মিসবাহ-উল হকদের। চতুর্থ দিনটার কথাই ধরুন! সকাল থেকে লংকান ব্যাটসম্যানদের দাপট। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ সেঞ্চুরি করলেন, চান্দিমাল করলেন হাফ সেঞ্চুরি। রান চলে যাচ্ছিল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু হঠাৎ করেই ইমরান খান নামক তরুণ পেসারের তোপের মুখে মাত্র ৩১৩ রানে অলআউট হয়ে গেলো শ্রীলংকা। দিনের মাঝ পর্যন্ত এটা একটা রং, যেন আকাশে মেঘ জমেছিল।

Kwality- Milestoneএরপর দুই ইনিংস মিলিয়ে পাকিস্তানের জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭৭ রান। রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। কারণ, চতুর্থ ইনিংসে এতো রান কখনোই করতে পারেনি পাকিস্তান। এর আগে তাদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল ৩৪৩ রানের, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। যে ম্যাচটি ড্র হয়েছিল সেবার।

জিততে হলে এবার যে পাকিস্তানকে রীতিমতো রেকর্ড করতে হবে! প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের তুলনা করলে যে অসম্ভবই মিসবাহদের জন্য। তবুও ৩৭৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামলো পাকিস্তান এবং নেমেই শূন্য রানে হারাল আহমেদ শেহজাদের উইকেট। ২১ ইনিংসের টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো রান না করে আউট হলেন শেহজাদ। ১৩ রানের মাথায় আউট হয়ে গেলেন ইনফর্ম ব্যাটসম্যান আজহার আলিও। লাঞ্চের পর এটা হলো একটা চিত্র, যেন মেঘের পর বৃষ্টি নামা শুরু হলো পাকিস্তানের ওপর।

১৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানকে টেনে তোলার ভার গ্রহণ করেন অভিজ্ঞ ইউনিস খান। সঙ্গে নিলেন তরুণ ওপেনার শান মাসুদকে। এ দু’জনের ব্যাটে চড়ে ধীরে ধীরে সূর্য উঁকি দিতে শুরু করে এবং একটা সময় এসে সূর্য এতটাই উদিত হলো যে যেন মধ্য গগণের উজ্জ্বল আলো বিলানো শুরু করেছে পাল্লেকেলের সূর্য। আর তাতে পুড়ে ছাই হতে শুরু করেছে শ্রীলংকা।

Explore1দিন শেষে এই চিত্র নিয়েই মাঠ ত্যাগ করলো পাকিস্তান। তখনও সেই ২ উইকেটেই পাকিস্তানের রান ২৩০। সেঞ্চুরি এসে গেছে ইউনিস আর শান মাসুদ- দু’জনের ব্যাট থেকেই। জয়ের নিশ্চিত কাছাকাছি পাকিস্তান। অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পঞ্চম দিনের জন্য বাকি রাখল মাত্র ১৪৭ রান। হাতে তখনও ৮ উইকেট বাকি।

পঞ্চম দিন এসে আর সূর্যকে মেঘের আড়ালে হারিয়ে যেতে দেয়নি পাকিস্তান। শুধু ১২৫ রান করা শান মাসুদের উইকেট হারাতে হয়েছে। ২৪২ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন মাসুদ আর উইনিস। তবে, এই আউটেও টলানো যায়নি পাকিস্তানকে। অভিজ্ঞ ইউনিস খান তো আউটই হলেন না। অপরাজিত থাকলেন ১৭১ রানে। সঙ্গে মিসবাহ-উল হক অপরাজিত থাকলেন ৫৯ রান করে। শেষ পর্যন্ত রেকর্ড গড়েই শ্রীলংকাকে ৭ উইকেটে হারালো পাকিস্তান এবং সিরিজ জিতে নিল ২-১ ব্যবধানে।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১