Sports Bangla

আর্জেন্টিনায় মেসির এক দশক

আর্জেন্টিনায় মেসির এক দশক

আর্জেন্টিনায় মেসির এক দশক
আগস্ট ১৭
১৩:৫৬ ২০১৫

Kwality (1)জাতীয় দলের হয়ে মেসির এক দশক পূর্ণ হলো ১৬ আগস্ট, ২০১৫। ১০ বছর আগে ২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে অভিষেক হয় এই ফুটবল জাদুকরের। তবে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকটা সুখকর হয়নি তার। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার এক মিনিটের মাথায়ই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই স্ট্রাইকার।

১৬ আগস্ট, ২০০৫। দ্বিতীয়ার্ধের ১৮ মিনিট অর্থাৎ ৬৩ মিনিটের সময় লিজেন্দ্রো লোপেজের পরিবর্তে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে ১৮ বছর বয়সী তরুণ মেসি ১৮ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিক থেকে দর্শকদের উল্লাসধ্বনি শুরু হয়। সবার দৃষ্টি মেসির দিকে। সেদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক ঘটা মেসি মাত্র দুই মাস আগে আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতে এসেছেন।

Bright-sports-shop_bigমেসির অভিষেক ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল হাঙ্গেরি, ঠিক যেমনটা ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনার অভিষেক ঘটেছিল হাঙ্গেরির বিপক্ষে। ম্যাচটি আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও রেফারির বাজে সিদ্ধান্তের কারণে মাঠে নামার এক মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে কেঁদে কেঁদে মাঠ ছাড়েন মেসি।

সেদিন মাঝমাঠের মাঠের ডানপ্রান্তে খেলছিলেন লিওনেল মেসি। মাঠের নামার অল্প সময়ের মধ্যেই লিওনেল সেলোনির কাছ থেকে পাস পেলেন মেসি। বল ধরেই ডান পা দিয়ে আবার সেলোনি’কে ফেরত দেন এলএম টেন। সেলোনি’র পা ঘুরে বল চলে যায় লুকো গঞ্জালেসের কাছে। গঞ্জালেসের পা থেকে বার্নারদির কাছে। বার্নারদি বল বাড়ান তরুণ লিওনেল মেসির দিকে। লম্বা চুলের অধিকারী মেসি আন্দ্রেস আলেজান্দ্রোর সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান পান খেলে বল নিয়ে এগিয়ে যান।

এই সময়ই ঘটে মেসির বিতর্কিত লাল কার্ডের ঘটনাটি। ফেরেঞ্চ ফুসকাস স্টেডিয়ামের ১২ হাজারেরও বেশি দর্শক কল্পনাই করতে পারেননি কী ঘটতে যাচ্ছে। বার্নারদির পা হয়ে বল মেসির কাছে চলে যায়। দুর্দান্ত নৈপূণ্যে বল নিয়ে হাঙ্গেরির ডি-বক্সের ভেতরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মেসি। পেছন থেকে বাধা দেন হাঙ্গেরির ডিফেন্ডার ভালমোস ভ্যানসাক। পেছন থেকে তিনি মেসির জার্সি টেনে ধরেন, মেসিকে সামনে এগিয়ে যাওয়া থেকে বাধা দেন। প্রতিবন্ধকতা পেয়ে এলএম টেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে হাত দিয়ে বুকে আলতো ধাক্কা দেন।

Milestone-wedding-1-main colorঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ভালমোস ভ্যানসাক লুটিয়ে পড়েন, যদিও মাটিতে পড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। যে কারণে রেফারি ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন। হাঙ্গেরি ডিফেন্ডার এমন ভাব করেছেন যেন তার সঙ্গে মারাত্মক কিছু ঘটেছে। শুধু তাতেই থেমে থাকেননি তিনি। হাতটি মুখে এমনভাবে লাগালেন যেন তিনি দেখছেন তাতে রক্ত লেগে আছে কী-না। মেসি কিছুই বুঝতে পারেননি তিনি। তিনি তো মাত্র ডিফেন্ডারকে তার বুকে মৃদ ধাক্কা দেন।

ফাউল দেয়ার ঘটনায় আর্জেন্টিনার তখনকার অধিনায়ক হুয়ান পাবলো সোরিন রেফারির কাছে এর কারণ জানতে চান। হেউঞ্জ ও রবার্তো আয়ালাও রেফারিকে ঘিরে ধরেন। সেই ম্যাচের রেফারি মার্ক, যিনি ২০০৪ সালের ইউরো কাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মেসিকে লাল কার্ড দেখান তিনি। হতাশায় মুষড়ে পড়েন। কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি তিনি। অভিষেক ম্যাচে মাঠে নামার মাত্র এক মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখলেন তিনি।

বিতর্কিত লাল কার্ডের ঘটনায় মেসি মেজাজ হারাননি। তবে তার চোখে ছিল কান্না ও বিষাদের ছায়া। মাঠ ছাড়ার সময় বিড়বিড় করে রেফারিকে কী যেন বলেন তিনি। মাথা উঁচু করেই মাঠ ছেড়েছেন এলএম টেন, তবে তার চোখে ছিল জল। সতীর্থরা এই সিদ্ধান্তে রেফারির প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তর্কে লিপ্ত হন। কেঁদে কেঁদে মাঠ ছাড়েন মেসি। কী অন্যায়ই না হয়েছে তার সঙ্গে! পেশাদার ক্যারিয়ারে আর কখনো লাল কার্ড দেখেননি চারবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী এই তারকা।

২০০৬ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ-অভিষেক ঘটে লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল করেন এই খুদে জাদুকর। তবে এরপর বিশ্বকাপের সেই আসরে আর মাঠে নামা হয়নি তার। বেঞ্চে বসেই কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিতে দেখেছেন তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপে পুরোটা আলো নিজের ওপর থাকলেও আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার করতে পারেননি তিনি। এবারও জার্মানির কাছে ধরাশায়ী মেসির আর্জেন্টিনা। আর ২০১৪ বিশ্বকাপে তো ফাইনালে এসেই সেই একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চুরমার হয়ে মেসিদের।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেজর কোনো শিরোপা জিততে পারেননি লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের শিরোপা এবং ২০০৮ সালে অলিম্পিক শিরোপা জয় করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৪৬ গোল করেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। গত বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে রানার্স-আপ হয় লিওনের মেসির আর্জেন্টিনা। এছাড়া ২০০৭ ও ২০১৫ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় এলএম টেনকে।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০