Sports Bangla

আট বছর পর জয়ের স্বাদ

আট বছর পর জয়ের স্বাদ

আট বছর পর জয়ের স্বাদ
জুলাই ১২
১৬:২৩ ২০১৫

Exploreআট বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরেকটি ক্রিকেটীয় জয়ের স্বাদ পেযেছে বাংলাদেশ। রবিবার সফরকারীদের বিপক্ষে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের বিশাল জয় সঙ্গী হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশের। বোলারদের কীর্তিগাঁথার পর সৌম্য আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দক্ষ হাতে জয়ের বন্দরে জাহাজ ভিড়ানোর সঙ্গে সিরিজে ১-১ সমতায়ও ফিরেছে স্বাগতিকরা। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেলেছে মাশরাফির দল।

পাকিস্তান জিম্বাবুয়ের মাটিতে স্বাগতিক দল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাশরাফিদের সামনে সহজ সমীকরণ ছিল এক ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের। দুই ম্যাচ টি-২০ সিরিজে টানা হারের পর প্রথম ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে রীতিমতো উড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত প্রতাপশালী সেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সব শংকা দূর করে দিল টাইগাররা। যেই পাকিস্তান বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার স্বপ্ন কেড়ে নেয়ার পায়তারা করেছিল সেই পাকিস্তানই এখন বিপদে।

ambiagroupটস জিতে ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৬২ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা; বাংলাদেশের বোলারদের আগুনে বোলিংয়ের আঘাত সামলাতে না পেরে। জবাবে তামিম ইকবাল, লিটন দাশ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেট তিনটি হারালেও ইনিংসের ২২.৪ ওভার (১৩৪ বল) বাকি থাকতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সৌম্য খেলেছেন হার না মানা ৮৮ রানের ঝকমকে ইনিংস। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে সময়োপযোগী ৫০ রান। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি। অন্যদিকে, সৌম্য পেয়েছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি দেখা।

সফরকারীদের কাছে টোয়েন্টি২০ সিরিজ হারার পর ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শোনা গিয়েছে ব্যাঘ্র গর্জনই। মাশরাফিবাহিনী ধারণ করেছে সেই রূপ; যেই রুপ দিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তান ও ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে কুপোকাত করেছিল তারা। আর সেই রূপ দেখে দক্ষিণ আফ্রিকাও করেছে অসহায় আত্মসমর্পণ।

Kwality- Milestoneসিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অতিথি দক্ষিণ আফ্রিকাকে কোণঠাসা অবস্থাতেই ফেলে দিয়েছে মাশরাফিবাহিনী। টস জিতে ম্যাচে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ছত্রখান হয়েছে হাশিম আমলার দলের ব্যাটিং লাইন। মুস্তাফিজ-নাসির-রুবেল-মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বোলিং জাদুতে শেষ অব্দি ৪৬ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও স্পিনার নাসির হোসেন। এ ছাড়া পেসার রুবেল হোসেন ২টি এবং অধিনায়ক মাশরাফি ও অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

দিবারত্রির এই ম্যাচে দলীয় ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ আউট হয়েছেন ওপেনার ডি কক (২)। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার সুযোগ পাননি আরেক ওপেনার ‘ধারাবাহিকতার প্রতিমূর্তি’ হাশিম আমলাও। ব্যক্তিগত ২২ রানে পেসার রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হয়েছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দলীয় ৪৫ রানে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক। এর ১৪ রান পরই আউট রিলি রসাউ। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা কেবল আসা-যাওয়ার মধ্যেই থেকেছে। যদিও ফাফ ডু প্লেসিস ৪১ আর শেষ দিকে ফারহান বেহারডিন ৩৬ রান করে প্রতিরোধ গড়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন।

টার্গেট ১৬৩ রান। খুব বড় টার্গেট নয় মাশরাফিদের জন্য। তবে এই টার্গেট তাড়া করতে নেমে যেন একটু বেশিই অস্থিরতায় ছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। প্রথম ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট আর একগাঁদা রেকর্ড সঙ্গী করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ পেসার কাগিসো রাবাদা। সেই ম্যাচে তামিমের উইকেট উপড়ে ফেলেছিলেন তিনি। রবিবারও সেই রাবাদার বলেই ফের স্ট্যাম্প হারিয়েছেন তামিম। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন মাত্র ৫ রান। এরপর লিটন কুমার দাশ ১৪ বলে ১৭ রান করে রাবাদার বলেই ক্রিজ ছেড়েছেন। দলীয় ২৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন খানিকটা চাপে; অনাগত ‘খারাপ’র শঙ্কায়। তবে সব শঙ্কা দূর করে দিয়েছে তরুণ ওপেনার সৌম্য সরকার আর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহর ব্যাট। আর তাতেই ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরেকটি জয়ের স্বাদ প্রশান্তি দিয়েছে ১৬ কোটি বাংলাদেশীকে।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০