Sports Bangla

আকাশ থেকে মাটিতে!

আকাশ থেকে মাটিতে!

আকাশ থেকে মাটিতে!
নভেম্বর ৩০
১৩:২১ ২০১৪

ambiagroupনিউজিল্যান্ড যেনো উড়তে থাকা পাকিস্তান দলকে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনলো। অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটশওয়াশ করা দলটিই কিনা নিউজিল্যান্ডের কাছে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জায় পড়লো। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে কিউইদের কাছে ইনিংস ও ৮০ রানের লজ্জাজনক পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকরা।

প্রথম ইনিংসে ৩৩৯ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে ট্রেন্ট বোল্ট ও মার্ক ক্রেইগের বোলিং তোপে পড়ে ২৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় মিসবাহর দল। ফলে ইনিংস ও ৮০ রানের বড় জয় পায় কিউইরা।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একাই লড়াই চালিয়েছিলেন আসাদ শফিক। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১৪৮ বলে ১৩৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন এই পাক ব্যাটসম্যান। তার ইনিংসটি ১৮টি চার ও ছয়টি ছয়ে সাজানো ছিলো। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে সরফরাজ আহমেদের ব্যাট থেকে।

Bright-sports-shop_bigপ্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট লাভ করা কিউই স্পিনার মার্ক ক্রেইগ দ্বিতীয় ইনিংসেও পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামান। ক্রেইগ নেন তিন উইকেট। চারটি উইকেট নেন বোল্ট।

প্রথম ইনিংসে ৩৩৯ রানে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তানের জন্য ম্যাচে ফিরতে ‘দুর্দান্ত’ কিছু করতে হতো। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি। উল্টো ৩৬ রান তুলতেই শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে নিজেদের পরাজয়ের জানান দেয় মিসবাহর দল। একে একে ফিরে যান শন মাসুদ (৬), আজহার আলী (৪), ইউনিস খান (০) ও হাফিজ (২৪)।

৩৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান দলের কোমর ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। তবে এক প্রান্তে অবিচল দাঁড়িয়ে থেকে লড়াই চালিয়ে যান আসাদ শফিক। সপ্তম উইকেট জুটিতে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সরফরাজ (৩৭)। এই দুজন ৭৩ রানের জুটি গড়ে দলের পরাজয়কে প্রলম্বিত করেন।

১৮০ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের ইনিংস পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে নবম উইকেট জুটিতে রাহাত আলীকে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়ে দলের পরাজয়কে আবার দীর্ঘায়িত করেন শফিক। এ সময় তিনি তুলে নেন তার সেঞ্চুরি। এক রানের ব্যবধানে এই দুজনকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ২৫৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন ক্রেইগ ও বোল্ট।

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের করা ৩৫১ রানের জবাবে ম্যাককালামের ২০২ ও উইলিয়ামসনের ১৯২ রানের পর চার চারটি অর্ধ-শতকের ওপর ভর করে কিউইরা ৬৯০ রানের পাহাড় গড়ে।

ম্যাককালামের ১৮৮ বলে ২০২ রানের ইনিংসটি ২১টি চার ও ১১টি ছয়ের মারে সাজানো ছিল। আর উইলিয়ামসনের ২৪৪ বলে ১৯২ রানের ইনিংসটি ২৩টি চার ও একটি ছয়ে সাজানো ছিলো। এছাড়া ক্রেইগ ৬০ এবং সাউদি, কোরি আন্ডারসন ও রস টেলর প্রত্যেকে ৫০ রান করে করেন।

পাকিস্তানের পক্ষে ইয়াসির শাহ ও রাহাত আলী চারটি করে উইকেট লাভ করেন। হাফিজ নেন দুটি উইকেট।

প্রথম ইনিংসে হাফিজের ১৯৭ রানের বড় ইনিংস সত্ত্বেও পাকরা গুটিয়ে যায় ৩৫১ রানে। এছাড়া আজহার আলী ৩৯ ও মিসবাহ করেন ৩৮ রান।

প্রথম ইনিংসে কিউইদের হয়ে ক্রেইগ সর্বোচ্চ সাতটি উইকেট লাভ করেন। ‘

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ১-১ এ সমতায় রইলো।

দুই ইনিংসে ১০ উইকেট লাভ করায় ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠে মার্ক ক্রেইগের হাতে। আর সিরিজে অল-রাউন্ডিং পারফরমেন্সের জন্য সিরিজ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ।

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড এরপর দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। আগামী ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ম্যাচ দুটি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দল দুটি পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ৮, ১২, ১৪, ১৭ ও ১৯ ডিসেম্বর।

শারজার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছে নিউজিল্যান্ড। ১০০’র উপর স্ট্রাইকরেটে ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি এক পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করে ডন ব্র্যাডম্যানের পাশে নাম লেখালেন ম্যাককুলাম। তার চেয়েও যে দলীয় কীর্তিতে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড!

নিজেদের টেস্ট ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে যেন শারজাহকেই বেছে নিলেন ম্যাককুলামরা। চলতি বছরই ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্ছ ৬৮০ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। তাও ২১০ ওভার খেলে। ৮ উইকেটে ডিক্লেয়ার করা ওই স্কোরটি ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। একই বছর শারজায় এসে সে রেকর্ড ভাঙ্গল কিউইরা।

তাও খুব দ্রুততায়। ৪.৮১ রান রেটে মাত্র ১৪৩.১ ওভার খেলে ৬৯০ রানের চূড়ায় আরোহন করে নিউজিল্যান্ড। নিজেদেরেই ছাড়িয়ে গেল তারা। গড়লো নতুন রেকর্ড। যদিও সবকটি উইকেট হারাতে হয়েছে তাদেরকে।

ভারতের বিপক্ষে ৬৮০ রান করার আগে কিউইদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল ৪ উইকেটে ৬৭১। তাও প্রায় ২৪ বছর আগে, ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে। ২২০.৩ ওভার লেগেছিল ওই ইনিংস খেলতে। ২০০৩ সালে মোহালিতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষেই ৬ উইকেটে ৬৩০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল নিউজিল্যান্ড। সেবার খেলেছিল ১৯৮.৩ ওভার।

Trent Boult had Younis Khan

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০