Sports Bangla

অ্যাশেজ সিরিজের সূত্রপাত

অ্যাশেজ সিরিজের সূত্রপাত

অ্যাশেজ সিরিজের সূত্রপাত
জুলাই ০৮
০৩:১৪ ২০১৫

ambiagroupক্রিকেটের আতুরঘর বলা হয় ইংল্যান্ডকে। সেই ইংল্যান্ডে এসে তাদেরই ১৮৮২ সালে ওভাল টেস্টে পরাজিত করে অস্ট্র্রেলিয়া। এ ঘটনায় ইংলিশরা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে শোক প্রকাশ করে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ইংলিশরা একটি ছাইপূর্ণ পাত্র উপস্থাপন করে যা পরে ট্রফির মর্যাদা পায়।

আসলে অ্যাশেজ সিরিজের নামকরণ হয়েছে বিদ্রুপাত্মকভাবে, শোকের প্রতীকিরুপে। তৎকালীন সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল, ১৮৮২ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়। চতুর্থ ইনিংসে ফ্রেড স্পোর্থের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড মাত্র ৮৫ রানের লক্ষ্যও ছুঁতে পারেনি। তিনি ৪৪ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন।

ঘরের মাঠে প্রথমবার অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায় ইংল্যান্ড। ওই হারের পর, লন্ডন থেকে প্রকাশিত স্পোর্টিং টাইমস তাদের প্রতিবেদনে ইংলিশ ক্রিকেট নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে লিখে,‘ ইংলিশ ক্রিকেটকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে ওভালের ২৯ আগষ্ট, ১৮৮২। গভীর দুঃখের সাথে বন্ধুরা তা মেনে নিয়েছে। ইংলিশ ক্রিকেটকে ভস্মিভূত করা হয়েছে এবং ছাইগুলো অস্ট্র্রেলিয়াকে দিয়েছে।’

Kwality- Milestoneএরপর ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ১৮৮২-৮৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতি সফর উপলক্ষে শিরোনাম করে,‘ অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারে যাত্রা শুরু।’ ওই সফরে মেলবোর্নে একদল নারী ইংল্যান্ড অধিনায়ক আইভো ব্লাইকে ছোট্ট ভস্ম স্তুপাকারে প্রদান করেন। পাত্রে রক্ষিত ছাই হিসেবে ছিল বেইলের ভস্ম।

এভাবেই বিখ্যাত অ্যাশেজ সিরিজের সূত্রপাত ঘটে। যে দল সিরিজ জেতে সেই দলকে দেওয়া হয় অ্যাশেজ ট্রফি।

অ্যাশেজ পাত্রটিকে ভুলবশত কেউ কেউ অ্যাশেজ সিরিজের ট্রফি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তবে এটি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু ব্লাই সবসময়ই এটিকে ব্যক্তিগত উপহার মনে করতেন। পরে ওই পাত্রের অনুলিপি বা রেপ্লিকাকে অ্যাশেজ সিরিজ বিজয়ের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়। কিন্তু কখনো প্রকৃত পাত্রটি দেওয়া কিংবা প্রদর্শন করা হয়নি। ব্লাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী লর্ডসে এমসিসি’র যাদুঘরে প্রকৃত পাত্রটি দান করেন।

মার্চ, ২০১৪ পর্যন্ত ৬৮টি অ্যাশেজ সিরিজ হয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ৩২ এবং ইংল্যান্ড ৩১ বার সিরিজ জয় করেছে। বাকি পাঁচটি সিরিজ ড্র হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১২৮টি ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের জয় ১০৩টি।

Explore1ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো লড়াই অ্যাশেজ সিরিজ শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের বর্তমান থেকে শুরু করে সাবেকরা কথার লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন সবাই। আর সংবাদমাধ্যমগুলো আরও এক কাঠি সরেস, সেই কথাগুলো আরও জীবন্ত করে পৌঁছে দিচ্ছে ক্রিকেটপিপাসুদের কাছে। অ্যাশেজ বলে কথা। ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দ্বি-পক্ষীয় সিরিজ, মর্যাদাপূর্ণও। এখানে জয়-পরাজয়ের সঙ্গে মিশে থাকে দুই দেশের অহংবোধও।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডকে বলা হচ্ছে ‘নতুন’। আর অস্ট্রেলিয়া ‘পুরনো’। তার মানে নতুন ইংল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই হতে যাচ্ছে পুরনো অস্ট্রেলিয়ার।

এক অর্থে অ্যালিস্টার কুকের দল নতুনই। বিশ্বকাপে জঘণ্য পারফরম্যান্সে ইংলিশদের মনোবল একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ রানার্স-আপ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বদলে যাওয়া ইংল্যান্ডকে দেখা গেছে। যে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের আদি শাস্ত্র রক্ষণশীল’ এর মন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসেছে। টেস্ট সিরিজ ১-১ এ ড্র করার পর ওয়ানডে সিরিজে যেভাবে খেলেছে এউইন মরগ্যানের দল সেটাই মূলত ইংলিশদের খোলনলচেই পাল্টে দিয়েছে। এক ম্যাচে ৪০০ প্লাস রান করার পাশাপাশি, ৩৫০ প্লাস রান তাড়া করেও জিতেছে তারা।

Bright-sports-shop_bigইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ বাজি ধরছেন নিজ দেশের পক্ষেই। তার ধারণা, এবারের অ্যাশেজে ২-১ ব্যবধানে জিতবে ইংল্যান্ড। ফ্লিনটফের উল্টোও আছেন। কেভিন পিটারসেনই যেমন বলছেন, ১-২ ব্যবধানে হারবে কুকের দল।

যে যাই বলুন না কেন, অস্ট্রেলিয়া আছে অস্ট্রেলিয়ার মতোই। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ দাপটের সঙ্গে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্বাগতিকদের একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে মাইকেল ক্লার্কের দল। ২-০ তে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ইংল্যান্ডে গিয়ে কেন্ট এবং এসেক্সের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ করেছে যথারীতি জয় দিয়ে।

তারপরও ক্লার্ক হালকাভাবে নিচ্ছেন না ইংলিশদের। ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কথা নিশ্চয় তারও অজানা নয়। তাই তার মনে হচ্ছে, জিততে হলে তাদের অদম্য ক্রিকেটই খেলতে হবে, ‘আমি জানি আমাদেরকে অনমনীয় ক্রিকেটই খেলতে হবে।’

এরপর যোগ করেন, ‘এই সিরিজ নিয়ে সংবাদপত্রে প্রচুর লেখা হচ্ছে। এটা নিয়ে অনেক বেশি কথা হওয়ায় আমি দারুণ খুশি। এগুলো মানুষকে বিনোদিত করছে, যারা ঘরে বসে খেলা দেখবে কিংবা মাঠে এসে।’

আসল লড়াইয়ের আগে আইসিসি দুই দলের অধিনায়ককে ডেকে সতর্ক করে দিয়েছেন, যাতে স্লেজিংয়ের নামে সীমা লংঘন করা না হয়। সংবাদমাধ্যমের সামনে এ নিয়েও কথা বলতে হলো ক্লার্ককে, ‘আপনার অবশ্যই খেলাটার আইনের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন। আপনি কঠিন খেলা খেলতে পারেন কিন্তু সেটা হতে হবে নির্ভেজাল। অতীতে কী ঘটেছিল আমি সেখান থেকে শিখেছি। ছেলেরাও জানে, আমরা কিভাবে আমাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি। এই অস্ট্রেলিয়া দল এবং যে কোনো অস্ট্রেলিয়া দল সব সময়ই মাঠে গিয়ে অদম্য ক্রিকেটই খেলেছে।’

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১