Sports Bangla

অবাক বিশ্ব তাকিয়ে রয়

অবাক বিশ্ব তাকিয়ে রয়

অবাক বিশ্ব তাকিয়ে রয়
জুলাই ১৫
১৮:০৭ ২০১৫

ambiagroupদলের জয়ের জন্য দরকার ১৬, দ্বিতীয় শতক থেকে মাত্র ১০ রান দূরে। তখনই পুরো ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো নিজের চরিত্রের বিপরীত শট খেললেন বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের নতুন সেনসেশন ধারাবাহিকতার অন্যতম প্রতীক সৌম্য সরকার। তাতে করে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেটে জয়ের বিরল রেকর্ড থেকে বঞ্চিত হতে হয়, তাও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ওয়ানডে ক্রিকেটের পরাক্রমশালী দেশের বিরুদ্ধে।

ঈদ পূর্ববর্তী ‘ঈদ উৎসব’-এ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আপনি চাইলে এই একটি বিষয় নিয়েই আফসোস করতে পারেন। ও, হ্যাঁ। ইচ্ছে করলে বৃষ্টির জন্য ৩ ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকা নিয়েও আপনি আফসোস করতে পারেন। না হয়, সৌম্যের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি ‘ঘরের ছেলের ঘরে ফেরা’-র মতো তামিমের রানে ফেরা, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়, মুস্তাফিজের দারুন শুরু, একই ম্যাচে সাকিব-মাশরাফির ২০০ উইকেটের মাইলফলক অর্জন, উদ্বোধনী জুটিতে বাংলাদেশের দেড় শতাধিক রান (১৫৪, সর্বোচ্চ ১৭০ রান-অপি এবং বিদ্যুৎ এর) এসব কিছু উপভোগ করতে করতে স্টেডিয়ামের ১৮ হাজার দর্শকের সাথে পুরো দেশের ১৬ কোটি মানুষ আনন্দে উদ্বেল হয়ে উৎসব করার সব চিত্রনাট্য ছিল আজ।

Kwality- Milestoneনিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, ভারত…। তালিকায় নতুন আরেকটি নাম যোগ হবে? প্রতিটি ‘বড়’ দলকেই বাংলাদেশ দিয়েছে সিরিজ পরাজয়ের লজ্জা। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হলো ক্রিকেটের প্রতাপশালী দক্ষিণ আফ্রিকার নামটিও। তাও তাদেরকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের আনন্দে মেতে ওঠার সব উপলক্ষই তৈরি করেন বাংলাদেশের দু ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার।

ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়েই যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকার। সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন তিনি। গত ম্যাচে অপরাজিত ৮৮ রান করার পর গতকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও তুলে নিলেন অসাধারণ এক হাফ সেঞ্চুরি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সৌম্য সরকারের এটি তার পঞ্চম ফিফটি। মরনে মরকেলের করা ইনিংসের ১৬তম ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে ৪১ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সৌম্য সরকার। হাফ সেঞ্চুরি করার পথে ৮টি চার মারেন এই টাইগার ওপেনার। এর আগে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮৮ রানের হার না মানা নান্দনিক ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সৌম্য সরকার। বিশ্বকাপ থেকেই অসাধারণ খেলছেন তরুণ ক্রিকেটার সৌম্য সরকার।

বাংলাদেশের হয়ে ২৭ ওয়ানডেতে ৩টি সেঞ্চুরি করা এনামুল হককে একাদশের বাইরে রেখে কেন সৌম্য সরকারকে দলে নেয়া হয়েছে প্রতি ম্যাচেই যেন সেটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন এই তরুণ ওপেনার। টানা কয়েক ম্যাচে রানের দেখা না পাওয়া তামিম ইকবাল ঘরের মাঠকেই বেছে নেন রানের ফেরার মঞ্চ হিসেবে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই মাঠেই ছিল তার ৮৮ রানের ইনিংস। গতকাল অনেক বেশি দেখেশুনে খেলেন তামিম, তাই সৌম্য যখন ৯০ রানে আউট হয়ে ফেরেন তামিমের রান তখন ৫১, যা দিনশেষে অপরাজিত ৬১। ১৫০ তম ওয়ানডে খেলতে নামা তামিম তুলে নেন নিজের ৩১তম অর্ধশতক। ১৫০ ম্যাচে তামিমের রান এখন ৪৫৮১।

Exploreএর আগে অঘোষিত ‘ফাইনাল’-এ পরিণত হওয়া চট্টগ্রামের তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করা দক্ষিণ আফ্রিকার ৫০ রানে ৪ উইকেট পতনের পর যখন বাংলাদেশের মুখে বিস্তৃত হাসি। তখন কালো মেঘ বৃষ্টি হয়ে ভাসিয়ে দিল চরাচর। একটি প্রশ্ন হাওয়ায়-বৃষ্টি কি দক্ষিণ আফ্রিকারই বেশি উপকার করে দিয়ে গেল? বাংলাদেশের অবস্থান থেকে দেখলে এই প্রশ্ন করা যেতেই পারে। তবে বৃষ্টিতেও বোলারদের ছন্দ নষ্ট হয়নি। বরং স্লগ করে রানটাকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগই দেয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শেষ ৫ ওভারে রানের ঝড়ের বদলে হলো উইকেটের বৃষ্টি। মাত্র ১৯ রানে রানে পড়ল ৪ উইকেট।

জেপি ডুমিনির ফিফটির পরও তাই দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০ ওভারে ৯ উইকেটে করেছে ১৬৮। ডার্ক-ওয়ার্থ লুইস ম্যাথড অনুসারে বাংলাদেশের নতুন টার্গেট গিয়ে দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ১৭০ রান। বাংলাদেশ ২৬.১ ওভারেই তা অতিক্রম করে রেটিং পয়েন্ট বাড়ায় ২। এখন ৯৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে থাকা ইংল্যান্ডের (৯৮) গায়ে ফুঁ দিচ্ছে মাশরাফির দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার এ রানের পেছনে বড় অবদান ডেভিড মিলার-জেপি ডুমিনির পঞ্চম উইকেটে তোলা ৬৩ রান। বিপর্যয় সামলানোর জোর চেষ্টা চালিয়েছিল এ জুটিই। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ফারহান বেহারডিয়ান-ডুমিনির ষষ্ঠ উইকেটে তোলা ৩৬ রানের কল্যাণে ১৬৮ করতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সাকিবই সবচেয়ে সফল। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ উইকেট পাওয়ার দিনে ৩৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। দুটো করে উইকেট মুস্তাফিজ আর রুবেল। এর মধ্যে রুবেলের দুটো উইকেটই ইনিংসের শেষ ওভারে। মুস্তাফিজ ৮ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৪ রান। আরও একটি দুর্দান্ত অফকাটারে ফিরিয়েছেন রাবাদাকে। একটি করে উইকেট মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফির। এর মধ্যে মাশরাফির উইকেটটি তাঁকেও ঢুকিয়ে দিয়েছে ২০০ উইকেটের ক্লাবে।

দ্বিতীয় ম্যাচের মতো গতকালও শুরুতেই প্রোটিয়াদের চেপে ধরে বাংলাদেশ। তবে কলও শুরুর আঘাত মুস্তাফিজের। আগের ম্যাচেও কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও তাঁর আঘাতেই ফিরলেন ডি কক। ডি কক ফিরে যাওয়ার পর সাকিবের শিকার হয়ে দলীয় ১৯ রানের মাথায় ফিরে গেছেন ডু প্লেসি। তৃতীয় উইকেটে অবশ্য ২৬ রানের জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান আমলা-রুশো। সেটিও ব্যর্থ করে দেন সাকিব। ১৩ রানের মাথায় সাকিবের বলে সাব্বিরের হাতে জীবন পেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আমলার। আমলা ১৫ রানে ফিরেছেন সাকিবের বলেই। এরপর মাহমুদউল্লাহর বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১৭ রান করা রুশোও। গত ম্যাচে প্রথম ১০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছিল ১ উইকেটে ৩৮ রান। গতকাল অবস্থা আরও শোচনীয়-১০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০। স্পিন-পেস-বাংলাদেশের দ্বিমুখী আক্রমণে শুরু থেকেই কাঁপছিল দক্ষিণ আফ্রিকা! বৃষ্টির আগে ওভার প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার রানের গড় ছিল সাড়ে তিনেরও নিচে। বৃষ্টি শুরুর আগে ২৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছিল ৪ উইকেটে ৭৮ রান। বৃষ্টির পরের ১৭ ওভারে ৫ উইকেটে ৯০।

বৃষ্টির পরও একই ছন্দ ধরে রাখে বাংলাদেশের বোলাররা। সাব্বিরের অসাধারণ ক্যাচে মিলারকে ফিরিয়েছেন মাশরাফি। বৃষ্টি হতে পারে দেখেই হাত খুলে মারতে শুরু করেছিলেন মিলার। ভাগ্য ভালো মিলার ‘কিলার’ হয়ে ওঠার আগেই তাঁকে ফিরিয়েছেন অধিনায়ক। আমলার সহজ ক্যাচ ফেলার ‘পাপ’ ঘোচাতে সাব্বির আরও একটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন লং অনে।

লেখক সম্পর্কে

আরিফুল হক

আরিফুল হক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০