Sports Bangla

অপেক্ষা এবার বাংলাওয়াশের

অপেক্ষা এবার বাংলাওয়াশের

অপেক্ষা এবার বাংলাওয়াশের
জুন ২১
১৮:৩৭ ২০১৫

গত বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমিদের কাছে ভারত মানেই প্রতিশোধ। ভারত দল বাংলাদেশে আসার আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ধেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভারত দলকে (প্রতিশোধের স্পৃহায়) নিয়ে তোলপাড় ছিল। বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বাংলাদেশের বিতর্কিত হারটি কেউ যেন সহজে মেনে নিতে পারছিল না।

Kwality (1)বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের মনের কথাতো আর আম জনতা জানার কথা নয়, তবে আম জনতা খুব করে চেয়েছিল বাংলাদেশ যেন ভারতের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ম্যাচ হলেও জিতে, তাহলেই মেলবোর্নের প্রতিশোধ হয়ে যাবে। আমজনতার মনের কথা ঠিকই পড়তে পেরেছেন টাইগাররা, প্রথম ম্যাচেই মিরপুরে মেলবোর্নের প্রতিশোধ নিয়ে নিলেন। সেই সাথে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগামী মৌসুম খেলা। তরুণ তুর্কি মুস্তাফিজের বাহাতি পেস-কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে ভারত নাকানি-চুবানি খেয়ে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পন করে বাংলাদেশের কাছে। আজ রাতে বাংলাদেশ আবারও পুরো বাংলাদেশকে উম্মাতাল আনন্দের ঢেউয়ে নাচালেন। আজ রাতে আবারও মুস্তাফিজ বীরত্বে ভারতকে-বধ করা হলো।

আজ দ্বিতীয় ম্যাচে মুস্তাফিজ আবার বুঝিয়ে দিলেন তিনি হ্যালির ধুমকেতু নন। তিনি বাংলার আকাশে ধ্রুবতারা হয়ে থাকবেন। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইন আপের ছয় ছয় জন ব্যাটসম্যানের প্রাণ কেড়ে নিয়ে গড়লেন বিশ্বরেকর্ড। ভারতকে থামিয়ে দিলেন ২০০ রানে।
এরপর যা ঘটলো তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের নব উত্থান হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একের পর এক সুখবর। একের পর এক উদযাপন। মিরপুর যেন এখন উৎসবের অফুরন্ত উৎসস্থল। মাত্রই কদিন আগে পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করার পর এবার ভারতকেও প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে হারাল বাংলাদেশ। সেটিও এক ম্যাচ হাতে রেখেই। প্রথম ওয়ানডের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপুটে জয় পেল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

ambiagroupপ্রথমে ব্যাট করতে নামা ভারতকে মাত্র ২০০ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ৪৭ ওভারে নেমে এসেছিল ম্যাচের আকার। ডি/এল পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্যও নির্ধারিত হয়েছিল ২০০ রান। ৫৪ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচে ফিফটি করা সাকিব কালও দলীয় সর্বোচ্চ ৫১ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়েই অপরাজিত থেকে ফিরেছেন। সৌম্য সরকারের ৩৪, লিটন দাসের ৩৬, মুশফিকুর রহিমের ৩১ রানের ক্যামিও ইনিংসগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে জয়ে। সাব্বির ২২ রান করেছেন। তবে মুশফিকের বিদায়ের পর সাকিবের সঙ্গে তাঁর ৪৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের জয়। এর আগে ৯৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে চাপে পড়ে যাওয়া দলকে টেনে তোলে সাকিব-মুশফিকের ৫৪ রানের জুটি।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে নায়ক মাত্রই দলে আসা মুস্তাফিজুর। একের পর এক বিস্ময় উপহার তিনি দিয়েই চলেছেন। মাত্র ৪৩ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব। গত ম্যাচের মতো কালও দ্বিতীয় স্পেলে হয়ে উঠেছিলেন বিধ্বংসী। দ্বিতীয় স্পেলের ৫ ওভারে মাত্র ১১ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট!

ইনিংসের ৪০ আর নিজের ৮ম ওভারের পর পর ২ বলে ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও অক্ষর প্যাটেলকে আউট করেছেন মুস্তাফিজ। এরপর ৪১তম ওভারের শেষ বলে রবীচন্দ্রন অশ্বিনকে আউট করে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছেন এই পেসার। ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকেই পর পর দুই ম্যাচে এমন কৃতীত্ব দেখানো দ্বিতীয় বোলার তিনি। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। রানের খাতা খোলার আগেই পেসার মুস্তাফিজের বলে পয়েন্টে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা। এরপর ১২ ওভার পর্যন্ত ভারতকে বিপদমুক্তই রেখেছিলেন শেখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি। তবে ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলেই কোহিলকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন নাসির হোসেন। অতঃপর ২১তম ওভারে ফের বাংলাদেশকে আনন্দ ভাসিয়েছেন নাসির। এবার ৫৩ রান সংগ্রহ করা ভারতীয় ওপেনার শেখর ধাওয়ানকে লিটন কুমারের গ্লাভসবন্দী করিয়েছেন তিনি। পরের ওভারেই ফের উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ। এবারে বাংলাদেশের সাফল্যের নায়ক পেসার রুবেল হোসেন। রানের খাতা খোলার আগেই আমবতি রাউডুকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন রুবেল; দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন নাসির।

Explore1দলীয় ১১০ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়েছিল ভারত। তবে ধোনি ও রায়না জুটি গড়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু তাদেরকে সফল হতে দেননি বাংলাদেশের ‘পেস বিস্ময়’ মুস্তাফিজ। রায়নাকে উইকেটরক্ষক লিটন কুমারের ক্যাচ বানিয়ে ৫৩ রানের জুটি ভেঙেছেন তিনি; আরেকবার সাফল্যের আনন্দে মেতেছে বাংলাদেশ। এরপর ৪০তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ধোনি ও প্যাটেলের উইকেট নিয়ে ভারতের বিপদের ষোলকলা পূর্ণ করেছেন মুস্তাফিজ।
মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে যখন কাঁপছে ভারত, তখন হঠাৎ বৃষ্টির হানা। ভারতের উইকেট বৃষ্টি থামাল আসল বৃষ্টি! ফতুল্লা টেস্টে এই বৃষ্টিকে ‘বাংলাদেশের দ্বাদশ’ খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে। সেদিন বৃষ্টি বিরক্তিকর লাগলেও গতকাল নিশ্চয় তা ক্ষণিকের জন্য একপশলা স্বস্তি এনে দিয়েছিল ভারতকে!

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি যখন ভিজিয়ে দিচ্ছিল চরাচর, বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে শঙ্কা, সিরিজ জেতার দারুণ সুযোগটা না আবার বৃষ্টির জলে ধুইয়ে যায়! হয়নি। প্রকৃতিও চায়নি দুর্দান্ত বাংলাদেশকে দমাতে। এমন হৃদয়গ্রাহী ক্রিকেট যারা খেলছে, তাদের যে দমাতে নেই!
প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ এই প্রথম পরাজয়ের হতাশায় ডোবাল, তা নয়। মাত্র কদিন আগেই বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা নিয়ে ফিরেছে পাকিস্তান; হাড়ে হাড়ে বুঝেছে, এ বাংলাদেশ অনন্য, অসাধারণ! অবশ্য এ সিরিজের আগে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ‘বিপজ্জনক দল’, ‘ভালো দল’ ইত্যাদি বলেছিল ভারত। সেটা যতটা না মন থেকে, তার চেয়েও বেশি ক্রিকেটীয় কূটনীতি থেকে। ধোনি-কোহলিরা বুঝতে পারেননি, এতটা দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য!

পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই এসেছিল ভারত। চূড়ান্ত রক্ষা হলো কোথায়? সিরিজ হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই ফিরতে হবে বাড়ি। যদিও দুদলের মুখোমুখি আগের তিনটি সিরিজ প্রতিবারই পরাজয়ের হতাশায় পুড়েছে বাংলাদেশ। এবার ভারতের পালা!
প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জেতার এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে হাবিবুল বাশারের মনে পড়ছে ১১ বছর আগের সেই জয়টা। ডিসেম্বরের কনকনে শীতের মধ্যে গোটা দেশের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছিল যে জয়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতকে প্রথম হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া হাবিবুল এখন নির্বাচক হিসেবে দেখছেন উত্তরসূরিদের কীর্তি। স্মৃতির ডানায় চড়ে হাবিবুল ফিরে গেলেন ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪-এ ‘সেদিন স্টেডিয়ামে বসারই জায়গা ছিল না। কত হাজার মানুষকে যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে! ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচটা জেতা আমাদের কাছে ছিল বিশেষ কিছু। সেবার অনেক দিন পর বাংলাদেশের মাটিতে আমরা জিতলাম। সম্ভবত অধিনায়ক হিসেবে দেশের মাটিতে পাওয়া আমার প্রথম জয়ও ছিল সেটা।’

Bright-sports-shop_bigসেই ভারতের বিপক্ষে আরেকটা সিরিজ জিতে স্বাভাবিকভাবেই রোমাঞ্চিত হাবিবুল। বললেন, ‘ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয়, সত্যিই অসাধারণ! অন্য কোথাও হলেও কথা। উপমহাদেশে, পরিচিত এ কন্ডিশনে এভাবে ভারতকে হারানো যাবে, সত্যি আমাদের জন্য বিরাট অর্জন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিরাট এক মাইলফলকও বটে।’
ওই ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেছিলেন আফতাব আহমেদ। চট্টগ্রামে নিজের বাসায় বসে দেখেছেন দলের অনন্য এ সিরিজ জয়। ফোনের ওপার থেকেই ভেসে আসছিল আফতাবের উচ্ছ্বাস, ‘ওই (২০০৪-এ) ম্যাচটা আমরা জিতব, কল্পনাই করতে পারিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতেছিলাম। আজ (গতরাতে) ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জেতার পর ঠিক ১১ বছর আগের মতোই ভালো লাগা কাজ করছে মনে। নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন এটি। এখন আমাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো দলকেই হারাতে পারি।’

সিরিজ তো হারলই, ভারতের সামনে যে বাংলাওয়াশের চোখ রাঙানি! বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ‘বাংলাওয়াশ’ শব্দটা প্রবল হয়ে উঠেছে গত ক বছরে। শব্দটা অনির্বচনীয় এক সুখানুভবের নামও বটে। এখনো ঘরের মাঠে যেকোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলতে নামলেই চারদিকে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে বাংলাওয়াশ! শব্দটির জন্ম ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে ৪-০ হারানোর মাধ্যমে। ‘যুগান্তকারী’ শব্দটার আবিষ্কারক ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান। দুর্দান্ত এ সিরিজ জয়ের পর ভারতকে বাংলাওয়াশ করা সম্ভব? আতহার খুব সংক্ষেপে উত্তরটা সারলেন, ‘অপেক্ষায় আছি।’
ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করেছে মোট ১০বার। বাংলাদেশের কাছে প্রথম ধবলধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল কেনিয়া, ২০০৬ সালে। দুবার করে ধবলধোলাই হয়েছে কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে ও নিউজিল্যান্ড। একবার করে স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান। সংখ্যাটা ‘১১’ হবে কিনা, নির্ভর করছে ২৪ জুন সিরিজের শেষ ম্যাচটির ওপর।

যদি সত্যি ভারতকে বাংলাওয়াশ করতে পারেন মাশরাফিরা, নিঃসন্দেহে সেটি এগিয়ে থাকবে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানের চেয়েও। যদিও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই দুটি সাফল্যও সোনায় মোড়ানো। তবে কিউইদের জন্য বাংলাদেশের কন্ডিশন-উইকেট একেবারেই ভিন্ন। পাকিস্তান অবশ্য উপমহাদেশেরই দল। তবে সাম্প্রতিক সাফল্য ও তারকা বিবেচনায় ভারতীয় দলের চেয়ে সেটি পিছিয়েই। র‌্যাঙ্কিংও তা-ই বলছে। ভারতের দুই নম্বর দলকে ভারতের চেনা কন্ডিশনে হারানো সত্যিই অনির্বচনীয়। যেভাবে ঘরের মাঠে একে একে বড় বড় দলকে বাংলাদেশ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, এভারেস্ট ডিঙানোও মাশরাফিদের জন্য এখন কঠিন কিছু নয়! পাকিস্তান বুঝে গেছে, এবার ভারতও বুঝুক না বাংলাওয়াশের জ্বালা কতটা। তবে শুরু হোক আরেকটি বাংলাওয়াশের কাউন্টডাউন- ১০, ৯, ৮…!
ও, হ্যাঁ। আজকের এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। মিরপুরের আনন্দের রেনু এখন ৬৮ হাজার বর্গমাইল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি কোনা থেকে শুনা যাচ্ছে বাঘের ডাক। যা নিশ্চিত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশি ভারতের বুকেও নিশ্চয় বিধছে।

লেখক সম্পর্কে

আরিফুল হক

আরিফুল হক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০