Sports Bangla

অন্ধকারে আশার আলো

অন্ধকারে আশার আলো

অন্ধকারে আশার আলো
জুন ০২
১৩:৪৮ ২০১৫

ambiagroupটেন্ডুলকার-গাঙ্গুলীর যুগলবন্দী আবার দেখতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। সর্বকালের সেরা ওপেনিং জুটির সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে উপরের দিকেই থাকবে তাদের নাম। ওপেনিং জুটিতে ৮ হাজারের উপর রান তোলা কম কথা নয়। সেই জুটিকে আবার ফিরিয়ে আনলেন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া।

২২ গজে ব্যাট হাতে যেভাবে বোলারদের শাসন করেছেন, সেরকমই ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে তাদের। বলা চলে, ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে চলেছেন শচীন-সৌরভ। বিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা কমিটিতে তাদের রেখে এই বার্তাই আসলে দেয়া হয়েছে। টিম ইন্ডিয়া’র কিসে ভাল হয় তারাই নির্ধারণ করবেন। শচীন-সৌরভের সঙ্গে তৃতীয় উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন ‘ভেরি ভেরি স্পেশাল’ ভি ভি এস লক্ষণ।

এখন কথা হলো, ভারতীয় দলে দীর্ঘদিন ধরে ব্রাত্য যুবরাজ সিং, বীরেন্দ্র শেবাগ এবং জহির খানদের ফেরার দরজাটাও কী খুলে গেল না? অনেকেই এই তিনজনের সঙ্গে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন ৪০০ এর উপর টেস্ট উইকেট তুলে নেয়া হরভজন সিংকে। সেই ভাজ্জি কিন্তু দলে ফিরেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে খেলতে পারেন বাংলাদেশের বিপক্ষে ফতুল্লা টেস্টে।

Explore1এবারের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন হরভজন। কিন্তু আইপিএলের পারফরম্যান্স কেন টেস্টে দল গড়ার জন্য বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতের কোনো কোনো সাবেক ক্রিকেটার। প্রশ্নটা যৌক্তিকও বটে।

আপনি দুইয়ে দুই মিলিয়ে নিতে পারেন। হরভজন যে দলে খেলেছেন সেই দলের সবচেয়ে বড় তারকা টেন্ডুলকার। যাকে কি না ডালমিয়া তার উপদেষ্টা কমিটিতে রাখার তোড়জোর শুরু করে দিয়েছিলেন অনেক আগে থেকেই। আর এটা তো পানির মতো পরিষ্কার হরভজনের সত্যিকারের আবিষ্কারক সৌরভ! আর এরাই তো এখন হতে যাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বেসর্বা।

তাহলে কী অন্ধকার সুড়ঙ্গে আলোর-রেখা দেখতে পাচ্ছেন শেবাগ-যুবরাজ-জহিররাও? দেখতেই পারেন। শেবাগ শেষ টেস্ট খেলেছেন হায়দারাবাদে ২০১৪ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন তিনি। অথচ একসময় শেবাগকে ভারতের সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবেও ভাবা হতো। ব্যাটিংয়ে টেন্ডুলকারের সঙ্গে এতটা মিল ছিল না আর কোনো ভারতীয়র।

Kwality- royalশুধু তাই নয়, ট্রিপল সেঞ্চুরি করা ভারতীয় ক্রিকেটারদের কাছে দূরের বাতিঘর, সেখানে দু’দুটো ট্রিপল সেঞ্চুরি রয়েছে শেবাগের। ১০৪ টেস্টে ৮,৫৮৬ রান করা শেবাগও সৌরভের আস্থাভাজন ছিলেন তার জমানায়। পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারলে তিনি ফের দলে ফিরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

এক সত্যিকারের ম্যাচ উইনারের নাম যুবরাজ সিং। তিনি সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, সেঞ্চুরিয়নে। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দলে সুযোগ পাওয়ার মতো অবস্থায় থেকেও পাননি যুবরাজ। এ নিয়ে তার বাবা সাবেক ক্রিকেটার যোগরাজ সিং অভিযোগ করেন অধিনায়ক ধোনির বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, ‘তার (ধোনি) কারণেই যুবরাজ ভারতের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পায়নি।’ ধোনির কারণে না অন্য কারণে যুবরাজ সুযোগ পাননি সেটা বলা মুশকিল। তবে এটা ঠিক যে, দল গঠনে অধিনায়কের মতকে উপেক্ষা খুব একটা করা হয় না। আর এটা জানা আছে বলেই কি-না যুবরাজের বাবা ধোনিকে শেষ জীবনে ভিক্ষা করে খেতে হবে বলে অভিশাপও দিয়েছেন!

অবশ্য যুবরাজের বাবার ক্ষিপ্ত হওয়ার যথেষ্ট কারণও ছিল। এ তো সেই যুবরাজ যে কি না ভারতকে ২৮ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপা জেতাতে বড় অবদান রেখেছেন। অথচ পরের বিশ্বকাপে তাকে ছাড়াই বিমানে উঠলো টিম ইন্ডিয়া!

২০১১ বিশ্বকাপে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলেন যুবরাজ। সেবার পুরো বিশ্বকাপজুড়ে বলে-ব্যাটে অসাধারণ খেলার গোপন রহস্য হিসেবে টেন্ডুলকারের নাম ফাঁস করেন তিনি। লিটল মাস্টারের পরামর্শেই নাকি যুবরাজের এমন বদলে যাওয়ার কারণ। তার সেই গুরু এখন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের টেকনিক বাতলে দেবেন। গুরু নিশ্চয় শিষ্যের কথা ভোলেননি।

যুবরাজ আবার সৌরভ বলতে অজ্ঞান! তার ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরে যায় সৌরভের নেতৃত্বের সময়েই। কঠিন সময়েও যুবরাজের পাশে থেকেছেন। অবশ্য যুবরাজও তার অধিনায়ককে প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

আইপিএলের নিলামে একবার সৌরভকে কোনো ফ্রাঞ্চাইজিই ডাকছিল না। অবিক্রীত থেকে গেলেন কলকাতার মহারাজ। যেটা সৌরভের জন্য ছিল চরম অপমানকর। ঠিক এই সময়টাই যুবরাজ পাশে দাঁড়ালেন সৌরভের। সাবেক ভারত অধিনায়ককে ডেকে নেওয়া হলো পুনে ওয়ারিয়র্সে। পরে জানা যায়, এতে না কি বড় ভূমিকা ছিল যুবরাজের।

টেস্টে থিতু হতে না পারলেও ওয়ানডেতে দারুণ সফল যুবরাজ। ২৯৩ ওয়ানডেতে ৩৬.৩৭ গড়ে রান করেছেন ৮,৩২৯।

একবার এক সাক্ষাৎকারে টেন্ডুলকার বলেছিলেন, মাঠের বাইরে তার বেশিরভাগ সময় কাটে জহির খানের সাথে। বলা হয়ে থাকে, জাভাগাল শ্রীনাথের প্রস্থানের পর ভারতের সত্যিকারের ফাস্ট বোলার হলেন জহির। তিনি সবশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়েলিংটনে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

সৌরভের নেতৃত্বের সময় বড় অস্ত্র ছিলেন এই জহির। একই সঙ্গে তার প্রিয়পাত্রও। ৯২ টেস্টে ৩১১ আর ২০০ ওয়ানডেতে ২৮২ উইকেট পাওয়া জহির আবার ফিরলে বিস্ময়ের কিছু নেই। এবারের আইপিএলে হয়তো খুব বেশি উইকেট তুলে নিতে পারেননি। তবে পুরনো রূপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন জহির। মাথার উপর যদি সৌরভ-শচীনের মতো ছাতা থাকে তাহলে পারফরম্যান্স ভালো হতে বাধ্য! একই কথা প্রযোজ্য শেবাগ-যুবরাজের বেলায়ও।

লেখক সম্পর্কে

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

স্পোর্টসবাংলা ডেস্ক

এই ধরনের আরো লেখা

০ মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি!

এই মুহূর্তে এখানে কোনো মন্তব্য নেই, আপনি কি একটি মন্তব্য দেবেন?

মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য লিখুন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২০
সোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্রশনিরবি
« আগস্ট  
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০